প্রচন্ড শীতে ধরা পড়ছে ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি

প্রকাশ:| সোমবার, ২১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:১৯ অপরাহ্ণ

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশতীব্র শীতে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকের ইলিশ। মৌসুম না হয়েও অসময়ে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও স্থানীয় ঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা রয়েছে আনন্দের হাসি। রাত-দিন জেলেরা ব্যস্ত মাছ শিকারে। অন্যদিকে কেনা-বেচায় মাছঘাটগুলো হয়ে উঠেছে সরগরম।

জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ইলিশের ভরা মৌসুম। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে গেলো বছর ইলিশের ভরা মৌসুমে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়েনি। নদী থেকে তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। কিন্তু গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে কমলনগরের বাতির খাল, মতির হাট, লুধূয়াসহ মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঝাঁকের ইলিশ ধরা পড়ছে। এ পৌষ মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা এখন মহাব্যস্ত।

সোমবার জেলার শহরের উত্তর তেমুহনী, মাছবাজার, চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাজারে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার ইলিশের পসরা। জেলেদের সামনে শোভা পাচ্ছে সারি সারি ইলিশ। ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ৬০০ থেকে উপরের ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
কমলনগরের চর কালকিনি এলাকার জেলে ইব্রাহিম খলিল জানান, এবারের বর্ষা মৌসুমে ইলিশ তেমন একটা ধরা পড়েনি। সে কারণে তারা দাদন ব্যবসায়ী মহাজনের দেনা শোধ করতে পারেননি। গত ৭/৮ দিন ধরে জালে ঝাকের ইলিশ ধরা পড়ছে। এভাবে আরো কিছুদিন ইলিশ ধরা পড়লে তাদের ধার-দেনা মিটবে বলে জানান তিনি।

বাতিরখাল এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, ইলিশ মাছ ধরা পড়ায় প্রতিদিন তিনি প্রায় ৮ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করছেন। তার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তারা চারজন জেলে রয়েছেন।
বাতিরখাল ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী বেলাল মাস্টার জানান, গত ৭দিন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা মহা আনন্দে রয়েছেন।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, শীতকাল ইলিশের প্রধান মৌসুম না হলেও অতীতে কিছু ইলিশ ধরা পড়তো। কিন্তু এবার শীত মৌসুমে রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরের মেঘনা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করতে পারায় এখন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে।