‘‘প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ শ্রেষ্ঠ কর্মবীর’’

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

নাগরিক শোকসভা

বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, সদ্য প্রয়াত মাহমুদুল ইসলাম শুধু একজন প্রকৌশলী ছিলেন না দেশপ্রেমে উদ্বুর্দ্ধ এই মানুষটি আমৃত্যু চট্টগ্রাম ও দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন, তাই তাঁর মৃত্যুরপরও তাঁকে আমাদের স্মরণ করে যেতে হবে। আজ বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার ইন্সষ্টিটিউশন চট্টগ্রাম মিলনায়তনে প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক শোকসভা পরিষদের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় তিনি প্রয়াত প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন জাতির জন্য অনেকের অবদানের কথা আমরা ভুলে যাই, যদি মাহমুদুল ইসলামের স্মারণীয় অবদান আমরা ভূলে যাই তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত হবো। প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বন্দর চ্যানেল মাইনমুক্ত এবং ডুবন্ত জাহাজ উদ্ধারে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যারে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এছাড়া তার কর্মক্ষেত্রে শততা ও সাহস আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে, তিনি অর্ন্তমুখী ছিলেন কিন্তু তাঁর চেহারায় অসাধারণ দীপ্তি ছড়াতো।
নাগরিক শোকসভা ২
সভাপতির ভাষণে আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায় তিনি আমার বিশ্বস্থ সহযোগি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমার সহযাত্রী ছিলেন। তিনি প্রয়াত প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের কার্যক্রমকে সকলের সামনে উপস্থাপন করার জন্য একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন প্রকৌশলী মামুদুল ইসলাম একজন কর্মবীর পুরুষ, তিনি দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে নিজেকে আড়াল করে রাখেননি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও নাগরিক শোকসভা পরিষদের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। ১/১১ সময়ের পর সামরিক বাহিনী সমর্থক সরকারের সাড়াশি অভিযানেও তিনি সাহস হারাননি। সে সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নগর জনসংখ্যা জরিপ প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে তাঁকে এবং আমাকেও মামলায় ঝুলানো হয়েছিল। কিন্তু মামলাটি টিকেনি। তিনি আরো বলেন প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মহিউদ্দিন চৌধুরীর সতের বছর মেয়র থাকাকালীন তাঁর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে মহিউদ্দিন ভাইকে সঠিকভাবে পরামর্শ দিতেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। একই ব্যক্তির তিনটি সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্বপালন নজিরবিহীন। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন কিন্তু তৎকালীন সরকার কোনটাকেই অনুমোদন দেয়নি।

এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জাপানের অনারারি কনস্যোল জেনারেল নুুরুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ একেএম বেলায়েত হোসেন, প্রকৌশলী মো. হারুন, প্রকৌশলী কাজী রোকন উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা জজ মাহাবুবুর রহমান, অধ্যাপক মো. সেকান্দর চৌধুরী, জেলা ন্যাপ নেতা আলী আহম্মদ নাজির, মহানগর মহানগর আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক আবু তাহের এবং মরহুম প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলামের সন্তান মহিউল ইসলাম।

উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. সোহেল কুমার সরকার, যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আবু তাহের, আবদুল আহাদ, শহিদুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী মো. এয়াকুব, সৈয়দ আমিনুল হক, অমল মিত্র, নুরুল আবছার মিয়া, থানা আওয়ামীলীগের আলহাজ্ব ফিরোজ আহম্মদ, আলহাজ্ব সাহাবউদ্দিন আহম্মদ, কাজী আলতাফ হোসেন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহাবুবুল হক সুমন, মহানগর ছাত্রলীগের ইমরান আহমেদ ইমু প্রমুখ।