প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবদুল কুদ্দুস’র স্থান হয় নি সরকারি তালিকায়

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৫:২৯ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রকৃত সনদ ও সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের সুপারিশ থাকার পরও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হননি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো.আবদুল কুদ্দুস।

ছয় বছর আগে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু সরকারি গেজেটে এখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে পারেননি। একাত্তরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় হতাশ আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী ও চার সন্তান। নৌ-বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার (মাস্টার অ্যাট আর্মস) স্বীকৃতির জন্য স্ত্রী-সন্তানেরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

জানা গেছে, সন্দ্বীপের আমানউল্লাহ ইউনিয়নের মৃত মুন্সী খোরসিদ মিয়ার ছেলে মো. আবদুল কুদ্দুস ১৯৭১ সালে পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর অধীনে কুমিল্লা রিক্রুটিং অফিসে চাকরি করতেন (পদ চিফ পোর্ট অফিসার, মাস্টার অ্যাট আর্মস, অফিস নম্বর – ৬৩৯০৫)।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতের হলদিয়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষ করে একাত্তরে বিএনএস পদ্মা পলাশে যোগ দিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন আবদুল কুদ্দুস। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে সনদও (নম্বর-২৩৬৩৯৮) নেন তিনি। ওই সনদটি আবার নৌ-অফিসার (অপারেশন, হেড কোয়ার্টার) দ্বারা সত্যায়িত করা আছে।

আনোয়ারা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, জেনারেল ওসমানীর কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ রয়েছে। ভারতের মুক্তিযোদ্ধাদের (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) একটি নামের তালিকায়ও আমার স্বামীর নাম ৩ নম্বর ভলিউমের ৮১ নম্বর খন্ডের ২০৫৩৪ নম্বর ​ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত আছে। পরে এসব সনদের অনুলিপি নিয়ে আমি মন্ত্রণাল​য়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকবার আবেদন করেছি। কিন্তু সরকারি গেজেটে এখনো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্দ্বীপ উপজেলা কমান্ড থেকেও প্রত্যয়নপত্র আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের চাকরির দরখাস্ত করতে গিয়ে জানতে পারি স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই।

যুদ্ধের পর আবদুল কুদ্দুস বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিএনএস ঈশা খাঁতে যোগ দেন। পরে ১৯৭৩ সালে অবসরে যান।

তাঁর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ১৯৭৪ সালে সন্দ্বীপে আমাদের গ্রাম নদী ভাঙনের কবলে পরে বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। পরে আমরা সেখান থেকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ফকিরতাকিয়া এলাকায় বসবাস শুরু করি। ১৯৭৯ সালে বাবা মারা যান। বাবার নাম যে তালিকায় নেই তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা জানতাম না।

২০১৪ সালে রাউজান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা যাচাই বাছাই সংক্রান্ত একটি অন্তর্ভুক্তি তালিকা আসে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই তালিকায় ৮৫ নম্বর ক্রমিকে প্রয়াত আবদুল কুদ্দুসের নাম অন্তর্ভুক্ত আছে।

ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত নামের তালিকার সন্দ্বীপ অংশে আবদুল কুদ্দুসের নাম অন্তর্ভুক্ত (ক্রমিক নম্বর ২০৫৩৪) আছে বলে সন্দ্বীপ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সন্দ্বীপের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ বি এম ছিদ্দিুকর রহমান বলেন, কুদ্দুস প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তিনি রাউজানে চলে যান। বিএনএস পদ্মা পলাশে যুদ্ধ করেছেন। তাঁকে জেনারেল ওসমানী সনদও দিয়েছেন। আমরাও সুপারিশ করেছি গেজেটে নাম তোলার জন্য।

রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকেও আবদুল কুদ্দুস যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা একটি সনদ দেওয়া হয়। তবে এত সুপারিশ ও সনদে কোনো কাজ হচ্ছে না।