প্রকৃতির নয়ানাভিরাম ‘আলতাদীঘি’

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৫ ডিসেম্বর , ২০১৮ সময় ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁর ধামইরহাটে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে ঘেরা আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান। যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে জীবজন্তুর লুকোচুরি খেলা চলে দিনভর। এটিই জেলার একমাত্র প্রাকৃতিক উদ্যান।

বছর দুয়েক আগে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণার পর থেকেই ধামইরহাটের এ বনাঞ্চল দিনদিন বেড়ে চলেছে দর্শনার্থীদের ভিড়। দুইশ বছরের পুরনো আলতাদীঘি শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিণত হয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুরের শালবন ধ্বংস হলেও নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার প্রায় ১২০০ বিঘা জমির উপর শালবন রির্জাভ ফরেস্ট এখনও রয়েছে। বনের গাছপালা চুরি রোধের পাশাপাশি শালপাতা সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বনাঞ্চল এখন গহীন বনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে বনের মাঝে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ আলতাদীঘি দর্শনার্থী ও পর্যটকদের টেনে নেয় এক অমোঘ আকর্ষণে।

জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর ধামইরহাট থেকে বনাঞ্চল ও দিঘী পর্যন্ত পাকা সড়ক তৈরি করা হয়েছে। ছোটবড় সব ধরণের পরিবহনেই যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে। শালবনে বিভিন্ন প্রকার বিরল প্রজাতির জীবজন্তু অবমুক্ত করা হয়েছে।

বিভিন্ন উৎসবের পাশাপাশি যেকোনো সময়ে শালবন ও আলতাদীঘিই যেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো দর্শনার্থীর প্রথম পছন্দ।

জয়পুরহাট থেকে আসা দর্শনার্থী রতন বলেন, আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান নিঃসন্দেহে বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দ। তাই পর্যটন মৌসুমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রেস্ট হাউজ দরকার।

ধামইরহাট বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, শালবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর আলতাদীঘিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর এ বনে অজগর, মেছো বাঘ, গন্ধগোকুল, তক্ষক, বানর, হনুমান, টিয়াসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণি অবমুক্ত করা হয়েছে।