প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৩:৫১ অপরাহ্ণ

Bandarban-Nilachal-Picআলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান – প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে বান্দরবানে ছুটে আসছে পর্যটকেরা। টানা তিনদিনের সরকারী ছুটিতে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল, রেষ্টহাউজ-গেস্টহাউজগুলো বুকিং হয়ে গেছে। কোথাও কোনো সীট খালি নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে ঈদের পরে বান্দরবানে বেড়াতে আসা অসংখ্য পর্যটক আটকা পড়েছে জেলা শহরে।

জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘন্টা হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকরা বাড়ি ফিরতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারসঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন সংকটও। বুধবার রাতের ঢাকাগামী সকল বাস সার্ভিসের টিকেট আরো কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শ্যামলী পরিবহণের কাউন্টার ম্যানেজার মুসলিম উদ্দিনসহ পরিবহণ শ্রমিকরা। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বান্দরবান-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা রুটে বিআরটিসি বাসসহ পরিবহণ সার্ভিস আরো বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সৌরভ, সানজিদাসহ আরো অনেকে।

প্রতিবছরই ঈদকে ঘিরে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে পাহাড়ী বান্দরবানে পর্যটকের আগমন ঘটে। ঢল নামে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকের। কিন্তু নিবন্ধন বাতিলের রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে এবার তেমনটা ঘটেনি। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সমস্ত আয়োজনের পরও আশানুরুপ পর্যটকের উপস্থিতি ঘটেনি। তবে পনের আগস্টসহ টানা তিনদিনের সরকারী বন্ধের সুবাধে পর্যটকের ঢল নামছে বান্দরবান জেলায়।

ইতিমধ্যে শহরের হোটেল-মোটেল, রেস্টহাউস এবং গেস্টহাউস গুলোও বুকিং হয়ে গেছে। কোথাও কোনো সীট খালি নেই বলে জানিয়েছেন বান্দরবান হোটেল-মোটেল পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। হোটেল-মোটেলে সীট না পেয়ে পর্যটকরা এখন ছুটছে দূর্গমাঞ্চলে পাহাড়ী গ্রামগুলোতে। পাহাড়ীদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিচ্ছে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। পাহাড়ীরাও অর্থের ভিত্তিতে থাকা-খাওয়া এবং টুরিস্ট গাইড্ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে।

পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে ছুটে আসছে পর্যটকরা। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন কমপ্লে¬ক্সে লেকের উপর নির্মিত দুটি ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবলকার, মিনি সাফারী পার্ক ও চিড়িয়াখানা ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্যটকরা। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটন স্পটের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে পাহাড়ের সমুদ্র দেখছে পর্যটকরা।

পাহাড়ের সাথে আকাশ মিতালী গড়েছে নীলাচলে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও হারাচ্ছে স্বপ্নের দেশে। জেলা সদর থেকে ২৫ কিলেমিটার দূরে অবস্থিত বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ পর্যটকরা। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। মুহুর্তে মেঘ এসে এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছে কটেজগুলো।

শহরের অদূরে অবস্থিত শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে গাঁ ভাসাচ্ছে পর্যটকরা। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়। পাশে বসেই কোমর তাঁতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছে পাহাড়ী তরুনীরা।

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সুভ্রত এবং শেলী জানান, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাহাড়ী মানুষের বৈচিত্রময় জীবন খুবই সুন্দর। পাহাড়ের বৈচিত্র রুপ মুগ্ধ হওয়ার মতো। প্রকৃতির এতো কাছাকাছি আগে কখনো আসা হয়নি সত্যিই অসাধারণ।

অপরদিকে শহরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এখানে প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে দেশি-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক। রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝর্ণা, রহস্যময় কিংবদতিন্ত বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ক্যাওক্রাডং ও তাজিংডং বিজয় প্রতিটি স্পট-ই এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী পথে নৌকা নিয়েও ঘুরছে পর্যটকরা।

সবমিলিয়ে পাহাড় কন্যা বান্দরবান এখন হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে। পাশাপাশি বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবন চিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পর্যটকের আগমন কমেছে। হরতালের কারণে ঈদেও আশানুরুপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি। তবে কয়েকদিন ধরে পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে এবং সন্তুষ্ঠের সঙ্গে ভ্রমন করতে সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।>>১৪ আগস্ট (বিডিপ্রেস২৪ডটকম)