প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে বান্দরবানে ভীড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

বান্দরবান নির্মল ছোঁয়া ২আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে বান্দরবানে ভীড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা। ভ্রমন পিপাসু মানুষদের বরণে প্রস্তুত বান্দরবানের দর্শণীয় স্থানগুলো’সহ আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেষ্টহাউজগুলো। পবিত্র ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্যুরিস্ট স্পট এবং আবাসিক হোটেলও রেষ্টুরেন্টগুলো ধুয়ে মূছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক হয়রানী বন্ধে পর্যটকদের সবধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
শীত কিংবা বর্ষা প্রতিবছর মূলত ঈদের ছুটিকে সামনে রেখেই রুপের রাণী বান্দরবানে পর্যটকের আগমন ঘটে। এবারো ব্যক্তিক্রম ঘটেনি। ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে বান্দরবানে ভ্রমন পিপাসু মানুষদের ভীড় বাড়ছে বান্দরবানে।
ইতিমধ্যে জেলা শহর’সহ আশপাশের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলোর অধিকাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ হলেও ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের বাড়তি চাল লক্ষ্য যাচ্ছে বান্দরবানে। বান্দরবান নির্মল ছোঁয়া
গ্রীণল্যান্ড হোটেলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এগারো সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সবগুলো রুম বুকিং রয়েছে। অতিথি পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পালকি গেষ্ট হাউজের পরিচালক শাফায়েত হোসেন বলেন, বাড়তি ঝামেলা এড়াতে অন্যবারের মত এবার আমরা ঈদের ছুটিতে শতভাগ রুম অগ্রীম বুকিং দেয়নি। বেড়াতে আসা পর্যটকেরা দেখে পছন্দমত রুমে উঠতে পারবেন। কিন্তু পর্যটকদের সেবায় গেষ্টহাউজের রুমগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং দর্শণীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখাতে গাড়ী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলিডে ইন রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আমাদের রিসোর্টের সবগুলো রুম ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সবগুলো রুম বুকিং রয়েছে।
পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে ছুটে আসছে পর্যটকরা। পাহাড় থেকে ঝড়ে পড়া ঝর্ণা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, বাদুর গুহা, দেবতা পাহাড়, আলীর সুরঙ্গতপথ এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ’সহ অসংখ্য পাহাড়। কি নেই এখানে। পর্যটকের মন ভোলানোর সমস্ত আয়োজন রয়েছে রুপের রানী খ্যাত বান্দরবানে। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন কমপে¬¬ক্সে লেকের উপর নির্মিত দুটি ঝুলন্ত সেতু, মিনি সাফারী পার্ক ও চিড়িয়াখানা ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্যটকরা। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টাওয়ারে উঠে পাহাড়ের সমুদ্র দেখছে পর্যটকরা। পাহাড়ের সাথে আকাশ মিতালী গড়েছে নীলাচলে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও পর্যটকরাও হারাচ্ছে স্বপ্নের দেশে। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ পর্যটকরা। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। মুহুর্তে মেঘ এসে এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছে কটেজগুলো। জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলগিরি স্পটটি স্বাস্থ্য স্থানও। শহরের অদূরে অবস্থিত শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে গাঁ ভাসাচ্ছে পর্যটকরা। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়। পাশে বসেই আদিবাসীদের কোমর তাঁতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছে তরুনীরা। জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এছাড়াও রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝর্ণা, রহস্যময় কিংবদন্তি বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ক্যাওক্রাডং ও তাজিংডং বিজয় প্রতিটি স্পট-ই এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী পথে নৌকা নিয়েও ঘুরছে পর্যটকরা। আর বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবন চিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া।
আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে ঢল নামে পর্যটকের। ইতিমধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেষ্টহাউজগুলো মোটামুটি ৯০% বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত এখন আবাসিক হোটেলগুলো।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, ঈদে নৈসর্গিক বান্দরবানে পর্যটকের বাড়তি চাল লক্ষ্য যায়। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটবেনা। ঈদের বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দে আরামদায়ক ভ্রমন নিশ্চিত করতে সবধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। পর্যটক হয়রানী বন্ধে পরিবহণ, আবাসিক হোটেল এবং রেষ্টুরেন্টগুলোর শ্রমিক-মালিকদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
…………………………………………………………..