প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, প্রশাসন নিরব

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ জুলাই , ২০১৬ সময় ০৮:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনেকের পরনে হাফ প্যান্ট আবার অনেকের পরনে পুল প্যান্ট, কেউ গেঞ্জি গায়ে, কারো পরনে শার্ট, আবার অনেকের পরনে র‌্যাবের মতো কালো পোশাক। সবার মাথায় টুপি। এ রকম পোশাক-আষাক পরে প্রায় অর্ধ শতাধিক বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী সবার হাতে, কাঁধে লম্বা, ছোট থ্রি-কোয়ার্টার বন্দুক। এখানে শার্টার গান থেকে শুরু করে অবৈধ ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা, নোনাছড়ি, মোঃ শাহঘোনাসহ ২/৩ টি গ্রামের অলি-গলি হয়ে প্রধান সড়কের অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলারসহ ডজন মামলার পলাতক আসামী থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ভয়ঙ্কর কালাবদা, মোঃ আলী, কালাজাঙ্গীরসহ আবুজাইল বাহিনীর দুধর্ষ সন্ত্রাসীরা।
এ বাহিনী নিয়মিত প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার কারণে এলাকার নারী-পুরুষেরা রয়েছে চরম আতংকে। বলতে গেলে মহেশখালীর উত্তরাঞ্চলের ৩/৪ গ্রামের ২০/২৫ হাজার মানুষ এ বাহিনীর হাতে জিম্মি। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অর্ধশত অস্ত্র নিয়ে মাসের পর মাস বিশাল অস্ত্রের মহড়া দিলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের প্রতি বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।
স্থানীয়দের মতে, স্থানীয় কালারমারছড়া পুলিশ বিটের আইসি এস.আই বোরহান এদের ধরবে না। তাদের মতে, র‌্যাব-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এখানে অভিযান চালালে বিপুল সংখ্যক ভারী অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা যাবে। তাই তারা এ বাহিনীর বিরুদ্ধে র‌্যাব-পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা হতে জামিনে বেরিয়ে এসে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে ফের সংঘবদ্ধ করে তোলে মহেশখালী থানার তালিকাভূক্ত শীর্ষে থাকা কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোঃ শাহঘোনা গ্রামের আবুল কাছিমের ছেলে হত্যাকান্ডের কিলার হিসেবে পরিচিত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান নুরুল আলম প্রকাশ কালাবদা বিশাল বাহিনী নিয়ে এক গডফাদার চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় আসন্ন কালারমারছড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনিত প্রার্থী সেলিম চৌধুরীকে কোনঠাসা করতে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি স্থানিয় তরুণ আ.লীগ নেতা জাকারিয়া ও উপজেলা যুবলীগের নেতা আজিমুল হাসান। জানা গেছে, বর্তমানে এ ভয়ঙ্কর বাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছে মহেশখালী বিভিন্ন ইউনিয়নে হত্যাকান্ডে কিলার বাহিনী।
যার কারনে কালারমারছড়া ইউনিয়নে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ায় এলাকায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে এ বাহিনী অপ্রতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। টানা সপ্তাহ ধরে মহেশখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী কয়েক ডজন খানেক মামলার আসামী নুরুল আলম প্রকাশ কালাবদা, আবু জাইল, মোঃ আলী, কালাজাঙ্গীর ডাকাতের নেতৃত্বে দাগী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়ে দিনদুপুরে ও রাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভূরি ভোজ করে রাতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। উক্ত সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে মদের মহাল, অস্ত্রপাচার, মানবপাচার সহ নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার নিরীহ জনসাধারণ সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতে পাচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোক্তভোগী জানান, আমরা মুখ খুলতে পাচ্ছিনা। যদি মুখ খুলি সন্ত্রাসীরা আমাদের স্ব-পরিবারে খুন করবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। এদিকে সংঘর্ষ এড়াতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান কামনা করেছেন সচেতন মহল। কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সেলিম চৌধুরী প্রিয় চট্টগ্রামকে জানান, কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় দাগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলে আইসি, এস. আই বোরহান তাদেরকে গ্রেফতার করছেনা। তিনি আরোও বলেন, পুলিশ এ পর্যন্ত কালারমারছড়া সবচেয়ে ক্রাইমজোন ৭ নং ওয়ার্ড বাজার এলাকা থেকে কোন গডফাদার ও সন্ত্রাসীদেরকে আটক করতে পারেনি। উল্টো সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এস আই বোরহানের বিরুদ্ধে। তাই পুলিশের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে কালারমারছড়ার সাধারণ মানুষ। উপজেলা আ.লীগের শীর্ষস্থানিয় একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার সত্বে জানান, কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস. আই বোরহান সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ায় তাদের গ্রেফতার করছেনা। পুলিশ যদি কালাবদা কালাজাঙ্গীরের মত দাগী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেনা। তাই তাদের গ্রেফতার করা অতি জরুরী।
মহেশখালী থানার ওসি বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, সন্ত্রাসীরা কোথাও মাথাচড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে। তিনি আরো ও জানান, অস্ত্র নিয়ে মহড়ার কথা আমি শুনি নাই তবে সন্ত্রাসীদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।