পৌর নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘সামনে পৌর নির্বাচন। এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু যা দেখছি, আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না। আগুন জ্বলছে, মানুষ মরছে। অস্ত্রের ঝন্ ঝনানি শুনছি। লোকজনকে গ্রেপ্তার জেলে দেয়া হচ্ছে। আমার দুই প্রার্থীকে জেলে দেয়া হয়েছে।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তীব্র সমালোচনা করে এরশাদ বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা আমি ভাবতে পারি না। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো- আমাদের নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড নেই। কমিশন মন্ত্রী-এমপিদের লাগাম টেনে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। এটাই প্রমাণ করে, নির্বাচন কমিশন কেবল প্রজাতন্ত্রের চাকরিই করছেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন না।’

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার করা হচ্ছে না। পৌর নির্বাচনে আমাদের পার্টির এক দেড়শ প্রার্থী ছিল। কিন্তু ভয়ে অধেক প্রার্থী বসে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন মানুষ মরছে, কেউ কথা বলে না। যে গণতন্ত্রের জন্য আমি রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। কোথায় আজ গণতন্ত্র। কথা বলার অধিকার নাই, ভয়ভীতির কারণে বুদ্ধিজীবীরা কথা বলতে পারে না, কেউ লেখতে পারে না। এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে? আমি যেমন ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিয়েছিলাম আজ যারা ক্ষমতায় তারা পারবে? পারবে না। কারণ, তাদের ভিতরে ভয় আছে। তারা জনগণের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না।’

সম্মেলনের বিশেষ অতিথি ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির যে উন্নয়নের ইতিহাস আছে, অন্য কোনো দলের নেই। রাষ্ট্রের প্রধানরা ঢাকার বাইরে যেতে চান না। যে কারণে দেশের তৃণমূলের সমস্যা সমাধান দূরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের সিলেট- ১ আসনটি টার্গেটে রাখতে হবে। এ আসনটিতে যে দলের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, সেই দল দেশ পরিচালনা করে। সুতরাং এ আসনটিতে জয়লাভ করতে হলে আমাদের দলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে চরম অস্থিতিশীল অবস্থ বিরাজ করছে। সভা বা সংগ্রামে প্রকাশ্যে না হলেও মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার কারণে সামাজিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতিতেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকার যেমন স্থিতিশীল, রাজনীতিও তেমন স্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। যা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।’

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন- পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, এসএম ফয়সাল চিশতী, দলের যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

সম্মেলনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে সভাপতি ও জহিরুল আলম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়।