পোশাক ছাড়া অভিযান, ডিবির পাঁচ সদস্য বরখাস্ত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১১ জুন , ২০১৫ সময় ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ও পোশাক ছাড়া এক ব্যবসায়ীর অফিসে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের কথিত অভিযান পরিচালনার অভিযোগে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল এ আদেশ দেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা হলেন- এসআই আমিরুল ইসলাম, এএসআই জহির উদ্দিন, কনস্টেবল আবু তাহের, সোহেল মো. ওমর ও শাহ আলম।

বিষয়টি নিশিত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত পাঁচজন সদস্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নেননি ও ডিবি’র পোশাক পরেননি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত গত ৮ জুন মধ্যরাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকায় ল্যানসেট হাসপাতাল ভবনের সৈয়দ নাসিম আহমেদের অফিসে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের সময় ওই অফিস থেকে পুলিশ সদস্যরা তিন লক্ষ টাকা লুট করে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ব্যবসায়ী নাসিমের ওই অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় ডিবি পুলিশের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের চিত্র ধারণ হয়ে যায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে জহির উদ্দিন ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন নাসিম আহমেদের অফিসে ঢুকছে। তারপর তারা অফিসের ভেতর ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। ডিবির কনস্টেবল সোহেলকে দেখা যায় ব্যবসায়ী নাসিমের দেহতল্লাশি করতে। ভিডিও ফুটেজে একজনকে একটি শপিংব্যাগে করে কিছু জিনিস নিয়ে ঢুকতে দেখা যায়।

পুরো ঘটনার বিষয়ে নাসিম পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা জিডিতে ব্যবসায়ী নাসিম বলেন, ডিবি পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতনামা লোকজন তার অফিসে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটটি নিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে তার অফিসের দরজা বন্ধ করে অফিসে ইয়াবা থাকার কথা বলে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তিনি পরে জানতে পারেন তার অফিসে তল্লাশি চালান জহির উদ্দিন ও সোর্স আবু তাহেরসহ নগর গোয়েন্দা পুলিশের আরও ৪-৫ জন লোক।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম আহমেদ কিছুদিন আগে তার ছোটবোন সৈয়দা শারমিন আহমেদের স্বামী ডা. ফজলে রাব্বি ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে ফজলে রাব্বি মোবাইল ফোনে তাকে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় তিনি পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নম্বর ৯৬৭। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলাটি চলতি মাসের ১৪ তারিখ শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যবসায়ী নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যাতে সুষ্ঠুভাবে মামলা চালাতে না পারি তার জন্য আসামিরা ডিবি পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলায় আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সিসি ক্যামেরা থাকায় আমি রক্ষা পেয়েছি।’