পোশাক রপ্তানি ৫০ মিলিয়ন ডলার করার রোডম্যাপ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নিত করার রোডম্যাপ নিয়ে অষ্ট্রেলিয়ার আরএমআইজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিশন ব্লু-বিউতে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড সেফটি এক্সপো ২০১৫’ এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজেএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম লিখিত ব্যক্তব্যে এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত করার রোডম্যাপটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাজ করছেন ড. শরীফ আছ-ছাবের ও তার দল। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়, যার বর্তমান বাজার দাম ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বিশ্ববাজারে আমাদের অংশগ্রহণ মাত্র ৫ দশমিক ১০ শতাংশ, যেখানে চায়নার অংশগ্রহণ ৩৭ শতাংশ। যদি আমরা আগামী ছয় বছরে আমাদের অংশগ্রহণ ৮ শতাংশে নিয়ে যেতে পারি তাহলেই ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় হবে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত করা সম্ভব।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর আমাদের তৈরী পোশাক খাত অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে। ২০১৩ সাল ছিলো আমাদের চ্যালেজ্ঞের বছর। কিন্তু এখন আমরা আবারো ঘুওে দাড়িয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশের তিন হাজার একাশি টি তৈরী পোশাক ফ্যাক্টরির মদ্ধ্যে তিন হাজার একচল্লিশ টি ফ্যাক্টরি এই বছরের এপ্রিলের মাঝে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। ২০১৩ সালে যেখানে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিলো ৮৩ টি, তা এখন ৩২৮ টিতে উন্নিত হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সরকারের সহায়তা পেলে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব।’

পোশাক মালিকদের এ নেতা বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে বিনোয়গ করেও উৎপাদনে যেতে পারছেনা শত শত কারখানা। এরফলে দিনের পর দিন ব্যাংকের সুদের বোঝা বইতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেসব কারখানায় নিজস্ব জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন বজায় রাখছে। তারাও জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গত দেড় বছর ধরে জ্বালানী তেলের দাম অর্ধেকে নেমে আসলেও আমাদের দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সরকারকে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ব্যক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বার ও ট্রেড মনিটরিং গ্রুপ ফর সাউথ এশিয়ার চেয়ারম্যান সাজ্জাদ করীম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মারিচা স্টিফেন্স মার্শিয়া বার্নিকেট, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াগ-বিন-মাহমুদ, শহীদুল্লাহ আজীম প্রমুখ।