পোকখালীর ডজনাধিক চিংড়ি ঘেরে মড়ক!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদর উপজেলার সাদা-কালা সোনা খ্যাত উপকূলীয় ইউনিয়ন পোকখালীর বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে মড়ক দেখা দিয়েছে। গত ১মাস থেকে মড়ক দেখা দিলেও এখন তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার প্রায় ডজনাধিক ঘেরে মারা গেছে ১শ কোটি টাকার চিংড়ি মাছ। ফলে চাষিরা বিনিয়োগকৃত পুঁজি নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছে।
ইউনিয়নের পোকখালী-গোমাতলীতে ব্যাপক হারে মড়ক দেখা দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যায় চিংড়ি প্রকল্পে নতুন পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ কম-বেশি হওয়ায় মড়ক দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘের সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ১০/১২ টি চিংড়ি ঘেরে মড়ক অব্যাহত থাকায় ঘেরের মালিক পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ঘের মালিকরা মড়কের কারণে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে আশঙ্কা করছেন।
গোমাতলীর চিংড়ি চাষী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে চলতি মৌসুমে অনেক ঘেরে এখন চিংড়ি চাষ হচ্ছে। গোমাতলীর ২/৩টি চিংড়ি ঘের দীর্ঘদিন ধরে জোয়ার-ভাটা ছিল। এছাড়া যে কয়টি ঘেরে চাষ হচ্ছে তার প্রায় সবকটিতেই মড়ক দেখা দিয়েছে।
পোকখালীর চিংড়ি ব্যবসায়ি নুরুল আলম জানিয়েছেন, ১মাস ধরে মড়ক অব্যাহত থাকায় চাষীরা আতংকিত। চলতি মৌসুমের প্রায় পুরো বিনিয়োগই ফিরে আসবে না। তাই অনেকেই এমন ঝুকি নিয়ে ব্যবসা করছে না।
চিংড়িতে ভাইরাস নিয়ে গবেষণাকারী ড. নাজমুল হাসান বলেন, চিংড়ি ভাইরাস ঠেকাতে নানা রকম উপায় আছে। এক্ষেত্রেও চাষীদের সতেচন হতে হবে। প্রথমত, চিংড়ির পোনার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোগমুক্ত পোনা ঘেরে ছাড়তে হবে। এ জন্য সরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে। তৃতীয়ত, ঘেরের গভীরতা দেখে মাটি পানি ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে ঘেরে উপযুক্ত চিংড়ি চাষ করতে হবে। এজন্য চাষিদের স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলেও তিনি দাবী করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডঃ মোঃ আব্দুল আলীম জানান, বিষয়টি উদ্বেগের হলেও চাষীদের আরো সচেতন হতে হবে। কক্সবাজারে উৎপাদিত চিংড়ি পোনায় তেমন সমস্যা নেই। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলেও চাষীরা এ ব্যাপারে এখনো পিছিয়ে আছে।


আরোও সংবাদ