পেশাজীবী সমাবেশে বক্তারা সিটি নির্বাচনে ৫ জানুয়ারীর পূনরাবৃত্তি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০১:৫৪ অপরাহ্ণ

ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগন সিটি নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এটি শুধু মাত্র নিছক একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরনে চলমান আন্দোলন সংগ্রামের নতুন অধ্যায়। ২৮ এপ্রিল আরেকটি ৫ জানুয়ারীর কলঙ্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হলে পরিনতি হবে ভয়াবহ।
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ দল সমর্থিত ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলমের সমর্থনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে “ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন” শীর্ষক পেশাজীবীদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।
গভায় বক্তারা বলেন, ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনে নগরবাসীর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার কিংবা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানোর কোন অপচেস্টা হলে জনগনের সর্বাত্মক প্রতিরোধ শুরু হবে। নির্বাচনে এ পর্যন্ত লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীর কোন উদ্যোগ সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। উল্টো সরকার দলীয় প্রার্থীদের খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলীয় প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার-হয়রানী করা হচ্ছে।
শনিবার নগরীর লাভ লেইনস্থ স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় মেয়র প্রার্থী আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলম ,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা শওকত মাহমুদ, বিশিস্ট কলামিস্ট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষক মাহফুজ উল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের আহবায়ক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, বক্তব্য রাখেন এ্যাব, চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৌশলী কে এম সুফিয়ান, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব এডভোকেট এস ইউ এম নুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রফেসর নসরুল কদির।

বিশিস্ট আইনজ্ঞ এড.খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটাররা আতংকগ্রস্থ। ভোটারদের আতংক দুর করতে কেন্দ্রে সেনা মোতায়েনের বিকল্প নাই। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্রের ভিতর সরকারের সোনার ছেলেরা ব্যালট বক্স নিয়ে কি করে তা পর্যবেক্ষন করতে প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশের অতীতের বিকৃত ইতিহাসের কারণে তাদের উপর জনগনের আস্থা নেই।

প্রবীণ এ আইনজীবি বলেন-বলেন নির্বাচন কমিশন বিগত ৫ জানুয়ারীর কলংকের পূনরাবৃত্তি করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে তারা জাতির কাছে মীর জাফর হিসাবে পরিচিত হবেন। তিনি বলেন আমরা সবাই মনজুর আলম হয়ে ২৮ এপ্রিলের যুদ্ধে বিজয় অর্জন করবো। শেখ হাসিনার বোঝা উচিত কোন স্বৈরশাসকের ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয়না। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন অনিবার্য কিন্তু পতনের সময় নির্ধারন করা যায় না মাত্র। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, দেশ ও জাতির এ ক্রান্তিকালে ঘরে বসে থাকার সময় আর নেই।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, নির্বাচন কমিশন পুলিশের আইজিপির কথায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করে। তারা দুই শতাংশ ভোট হলে বলে ৪০ শতাংশ ভোট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একদিকে বলছেন এটি কোন দলীয় নির্বাচন নয় আবার নিজে ডেকে প্রার্থী ঘোষনা করেন। তিনি অগনতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাতে ২৮ এপ্রিল সবাইকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে মনজুর আলমকে বিজয়ী করার আহবান জানান।

সমবেশে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম বলেন,আমি ২০১০ সালে বিএনপির জন্য একটি টেষ্ট পরীক্ষা দিয়েছিলাম আপনাদের প্রচেষ্টা, দোয়া এবং আল্লাহর রহমতে তখন টেষ্ট পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছি। এবার আবারো টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আপনারা সবাই পাশে থাকলে গতবারের মত বিজয়ী হবো।

বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা এক অদ্ভুদ নির্বাচনের মধ্যে পড়েছি। আগে নির্বাচন কমিশন ভোটারদেরকে নির্বাচনমুখী করতে নানা ধরনের প্রচার প্রচারনা চালাতো, এখন তা নেই। কমিশন চায় ভোটাররা যেন ভোট দিতে না যায়। দেশে এখন ভোটের আমেজ নেই আছে আতংক। দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার বিশিস্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা ও মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, সাবেক মন্ত্রী ও দক্ষিন জেলা বিএনপি,র সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি বেগম নূরী আরা সাফা, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, প্রবীন আইনজীবি এডভোকেট মো. কবীর চৌধুরী, এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ মীর্জা, এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, প্রফেসর ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান এবং অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।