পেকুয়া কলেজে ‘খন্ডখালীন’ শিক্ষকের রমরমা প্রাইভেট বানিজ্য

প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

:: প্রতিনিধি ::

কক্সবাজারের পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের খন্ডখালীন এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই কলেজের সাধারান শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। কলেজ অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ ইন্দনে ওই খন্ডখালীন শিক্ষক প্রাইভেট বানিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে ইংরেজী বিষয়ে পাঠদানের সুবিধার্তে বিগত কয়েক বছর পূর্বে কলেজ পরিচালনা কমিটি টেকনাফের বাসিন্দা মো. বশিরকে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজী বিষয়ে পাঠদানের জন্য ‘খন্ডকালীন’ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

কলেজ কমিটি অনেকটা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল এমনই অভিযোগ স্থানীদের। স্থানীয় কয়েজন সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, কলেজে ইংরেজী বিষয়ে পড়াতে হলে নূন্যতম ইংরেজী বিষয়ে অনার্সসহ মাষ্টার্স ডিগ্রী থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পেকুয়া কলেজে বিএ পাস করা ইংরেজী বিষয়ে পাঠদান করার জন্য খন্ডখালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়মভঙ্গ করেই বশির নিয়োগ দিয়েছিল কলেজের পূর্বের পরিচালনা কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেকুয়া কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, খন্ডকালীন শিক্ষক বশির প্রতিনিয়তই কলেজের একাডেমিক ভবন ব্যবহার করে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু করে সকাল ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়ান। শ্রেণী কক্ষে ভাল পাঠদান করে কৌশলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে ওই শিক্ষকের প্রাইভেট বানিজ্যের সত্যতা ও মিলেছে। পেকুয়া কলেজে গত কয়েক দিন পূর্বে ভোরে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৬টায় কলেজের মূল একাডেকিম ভবনের ২য় তলায় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এভাবে কলেজ একাডেমিক ভবন ব্যবহার করে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় একই কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যাচে ব্যাচে ভাগ প্রাইভেট পড়ায় ওই খন্ডখালীন শিক্ষক। কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীনাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জনপ্রতি ৫’শ টাকা মাসিক চুক্তিতে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে তারা প্রাইভেট পড়েন।

এদিকে পেকুয়া কলেজের কয়েকজন দরিদ্র শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে এ প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের টাকা আছে; তারাই কেবল বশির স্যারের কাছে গিয়ে ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়েন, কিন্তু আমরা দরিদ্র শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে পারিনা। স্যারেরা ক্লাসে ভালমতো পাঠদান করলে কেন প্রাইভেট পড়াতে হবে।

পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।

অভিযোগের ব্যপারে জানতে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ইংরেজি বিষয়ের খন্ডখালীন শিক্ষক মো. বশিরের সাথে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নং ০১৮১৬-৪৪১১২১ নাম্বারে গতকাল শনিবার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে বেশ কয়েকবার এ প্রতিবেদক ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।