পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনের ৩ বছর

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

লগো আওয়ামীলীগ
মো: ফারুক,পেকুয়া
গত ২০০৩ সালের ৩০এপ্রিল বারবাকিয়া কমিউনিটি সেন্টার মাঠে পেকুয়া উপজেলা আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলন। প্রয়াত ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচী সভাপতি ও মাষ্টার আজমগীর চৌধরী সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তারপর দীর্ঘ ৯বছর। ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন ও ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্টিত হয় কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে। কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটে সদ্য ঘাতকের হাতে নিহত আ.ক.ম সাহাবউদ্দিন ফরায়েজি সভাপতি, আবুল কাশেম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরই মাঝে সাহাবউদ্দিন ফরায়েজী নিহত হলে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভায় সাবেক সম্পাদক মাষ্টার আজমগীর চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে মনোনিত করে। এ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ এক ওর্য়ারকিং কমিটির বৈঠকে তা বাতিল করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সর্বশেষ গত ১১ ডিসেম্বর সকল উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ও কাউন্সিলের তালিকা জমাদান প্রসঙ্গ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভা অনুষ্টিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের ৩ বছর শেষ হচ্ছে। এ ৩বছরে দ্বন্দে জেলা আওয়ামীলীগ ও পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করতে পারেনি। যার কারণে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় ছিল পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠন গুলো। যার প্রভাবটি পড়েছিল বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। বর্তমানে এর প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও। এরই মাঝে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিহত হলে দলে দেখা নেতৃত্ব শূন্যতা। আর ওই দুজন নিয়ে শেষ হল ৩ বছরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।

এ নিয়ে গত ৪ মাস আগে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সাবেক নেতা ও ইউনিয়ন সভাপতিদের নিয়ে এক বৈঠকে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম তাদের কাছে পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন রয়েছে বলে জানান এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে ওই পূর্নাঙ্গ কমিটির সি:সহসভাপতি মাষ্টার আজমগীর চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে মনোনিত করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।

কিন্তু পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় বিষয়টি অগণতান্ত্রিক ঘোষনা করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভাপ্রাপ্ত সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীসহ তার অনুগতরা প্রত্যাখান করেন এবং জেলা আওয়ামীলীগের দারস্ত হন। গত ১৭ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগ এক জরুরী বর্ধিত সভায় পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন ধরণের পূর্নাঙ্গ নাই ঘোষনা করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষনাকে অবৈধ ঘোষনা করে জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো:হোছাইন, যুগ্ন-সম্পাদক এ্যাড: আমজাত, সদস্য গিয়াস উদ্দিনসহ আরো দুজনকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

জেলা আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড: আহমদ হোছাইন ২০১৩ সালের দিকে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সাক্ষর করলেও সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি সাক্ষর করেনি। যার কারণে কমিটি প্রকাশ করতে পারেনি পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ। যার কারণে বর্তমান যে কমিটি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনিত করা হয়েছে তা বাতিল করা হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় ওই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করতে না পারায় আরো ২দিনের সময় দিয়েছে বলে জানা গেছে।


আরোও সংবাদ