পেকুয়ায় ১০ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশ:| বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:৩০ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে লোক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরি পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে ৩০হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন নিয়োগ সংশিষ্ট লোকজন। ইতিমধ্যে এসব অভিযোগে দুইজন প্রার্থী কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন।
পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, গত ২৭জানুয়ারি শিলখালী ওয়ারেচীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘগুজারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাপিতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৯জানুয়ারি জামাল মেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরি পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষাটি স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও পরীক্ষা নেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। নিয়োগ বাণিজ্য সহজ করতেই ইউএনও কার্যালয়ে পরীক্ষাটি নেওয়া হয়েছে। প্রায় সব প্রার্থীর কাছ থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ্িবদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থীকে টাকা ফেরৎ ও দিয়েছেন।
শিলখালী ওয়ারেচীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ইব্রাহিম। তাঁর বয়স গোপন করে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর বয়স লেখা রয়েছে ০৫/০৪/১৯৭৭ইং। সে হিসেবে তার বয়স হয়েছে সাড়ে ৩৬বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র গোপন রেখে ইউপি কার্যালয় থেকে নিজের বয়স ৩০বছর করে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে জমা দেন ইব্রাহিম। ইব্রাহিম বলেন, “জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে আমার মতো অনেকে চাকুরি নিয়েছে। আমিও নিয়েছি। এখানে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কত আছে সেটি দেখার বিষয় নয়”। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুল জন্নাত আরা এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন। তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলার অনুরোধ করেন।
রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে নিয়োগ পান ফরিদুল আলম। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সভাপতি বা কোন সদস্যের নিজ সন্তান বা রক্ত সম্পর্কিত কোন আত্মীয় প্রার্থী হলে তিনি নিয়োগ কমিটির সভাপতি বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিন্তু ফরিদুল আলম বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মোকতার আহমদের চাচাতো ভাই। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত পরিপত্র স্পষ্টই লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া ওই পদের প্রার্থী মোস্তাক আহমদ বলেন, তাঁর চাকুরির নিশ্চয়তা দিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিও প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে ১লাখ ২০হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ফরিদুল আলমের কাছ থেকে এক লাখ ৫০হাজার টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
বাঘগুজারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন নুরুল কবির। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথমস্থান অধিকার করলেও রিদওয়ানুল হককে নিয়োগ না দিয়ে নুরুল কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। রিদওয়ানুল হক বলেন, এ কারনে তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
দক্ষিণ মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় নাছির উদ্দিনকে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত নীতিমালার ৪(১) এ উলেখ করা হয়েছে, দপ্তরি কাম প্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের সংশিষ্ট বিদ্যালয়ের নিকটতম এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু নাছির উদ্দিনকে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে নীতিমালার ৪(১) বিধি সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। নাছির ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাইরে মরিচ্যাদিয়া এলাকার বাসিন্দা। একইভাবে অন্য ৬টি বিদ্যালয়েও দপ্তরি কাম নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কান্তি চৌধুরী বলেন, “নীতিমালা লঙ্ঘন করে যেসব বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ পেয়েছেন, এসব বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে দেখব”। আবেদনকারি প্রার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দপ্তরি নিয়োগে কোন অনিয়ম দূর্নীতির সাথে তিনি জড়িত নন বলে দাবী করেছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়–য়া বলেন, “রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগে অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এটি আমরা তদন্ত করছি। অন্য যেসব বিদ্যালয়ে অনিয়ম কিংবা দূর্নীতি হয়েছে সেগুলোও আমরা খতিয়ে দেখব”।