পেকুয়ায় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের ‘কথিত পকেট কমিটি’ নিয়ে সাধারান শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ-উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশংকা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
পেকুয়া উপজেলায় সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ‘কথিত পকেট কমিটি’ নিয়ে সাধারান শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ‘কথিত কমিটির’ লোকজনের সাথে সাধারান শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, গত ৪জুন কক্সবাজার জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে সংগঠনের জেলা সভাপতি ও সাধারান সম্পাদককে ২লাখ টাকায় ম্যানেজ হয়ে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পেকুয়া-বরইতলী সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পদে জনৈক ছৈয়দুল হক ও সাধারান সম্পাদক পদে হারুন অর রশিদকে মনোনীত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পকেট ও মনগড়া কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। আর এ বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন দেওয়ার খবর পেকুয়া-বরইতলী-চকরিয়ায় প্রকাশ হয়ে পড়লে সাধারান শ্রমিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন।

সাধারান শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী প্রতিনিয়ত পেকুয়ার সাধারান শ্রমিকদের মতামত ও স্বার্থের জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের নিজেদের আঁখের গোছাতে বারবার কমিটি পাল্টানোর হিড়িক দেখাচ্ছে। আর নীতিবাচক প্রভাব পড়েছে পেকুয়ার সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের মাঝে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা কমিটি গোপনে হারুর অর রশিদকে কমিটি দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হারুন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল পেকুয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি। সিএনজি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনে তার আবির্ভাব হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত পেশিশক্তির বলয় তৈরী করে সংগঠনকে প্রক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। পেকুয়ার সাধারান শ্রমিকরা তার এহেন বিতর্কিত কর্মকান্ডে মুখ খোলার সাহস করেনা কেউ। নিজে সাধারান সম্পাদক হলেও দাফতরিক কার্যক্রমে সভাপতি ও কার্যকরী কমিটির অন্য সদস্যরা ছিল প্রতিনিয়তই নিগৃত। কারো ধার ধারেনা এ বিতর্কিত শ্রমিক নেতা হারুন অর রশিদ। সংগঠনের যাবতীয় কার্যাদি নিজের কব্জায় রাখতেন। এখানে আয় ব্যয়ের কোন হিসাব সংগঠনের কমিটির অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে গোপন রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ আতœসাৎ করতে সক্ষম হয়েছেন। আর এই সুবাধে ওই কথিত হারুন শ্রমিকদের সঞ্চিত প্রায় ৪০লাখ টাকা আতœসাৎ করে সংগঠনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে হারুনকে সেক্রেটারী হিসেবে ফের দায়িত্ব দেওয়ায় শ্রমিকরা উক্ত পকেট কমিটির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন। এ নিয়ে শ্রমিকরা জরুরী ভিত্তিতে উক্ত পকেট কমিটি বাতিল করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। অন্যতায় শ্রমিকরা কথিত হারুনকে বয়কটসহ তীব্র আন্দোলন ও ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন।

জানা যায়, গত মাসের ৩১ মে সংগঠনের কার্যকরী কমিটির জরুরী সভা পেকুয়া বাজারস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ সংগঠনের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আতœসাতের অভিযোগে হারুনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অনাস্থা প্রস্তবে স্বাক্ষর করেন, সংগঠনের সভাপতি নাছির উদ্দিন, সহ সভাপতি জামালা হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মৌলানা ওলি উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক খালেদ নেওয়াজ চৌধুরী, লাইন সম্পাদক আবুল হোছন, প্রচার সম্পাদক হারুন রশিদ-২, সদস্য নাজিম উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম। এ নিয়ে গত ২জুন তারা অনাস্থা প্রস্তবে রেজুলেশনের কপি জেলা সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি/ সম্পাদক বরাবরে দায়ের করেন। অনাস্থা প্রস্তাব জেলা কমিটি গ্রহনের পর ওই বিতর্কিত হারুন অর রশিদকে ফের অন্তর্ভূক্ত করে এর ২দিন পর তারা নয়া কমিটির অনুমোদন দেন। আর ওই কমিটিতে ফের শ্রমিকের লাখ লাখ টাকা আতœসাৎকারী হারুন অর রশিদকে অন্তর্ভূক্ত করায় সাধারান শ্রমিকেরা চরম বিক্ষুদ্ধ হয়েছে। জেলা কমিটির চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগণতান্ত্রিক মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন পেকুয়া সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের শত শত সাধারান শ্রমিকেরা।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, গত ৪জুন কক্সবাজার জেলা সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে গোপনে হারুণ অর রশিদ জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীকে ২লাখ টাকায় ম্যানেজ করে তার অনুগত ১১জনকে নিয়ে একটি বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন। পূর্বের কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস পূর্বেই জেলা কমিটি ফের নয়া কমিটি দিয়ে সাধারান শ্রমিকের তোপের মূখে পড়েছেন। আর এই কমিটিতেও ছৈয়দুল হককে সভাপতি করলেও শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির রেজুলেশনে যার বিরুদ্ধে অনাস্তা প্রস্তাব আনা হয়েছে ওই বিতর্কিত হারুনকে ফের সাধারান সম্পাদক করা হয়েছে ওই কমিটিতে। এছাড়াও এ বিতর্কিত কমিটিতে সহ সভাপতি করা হয়েছে জসিম উদ্দিনকে,সহ সেক্রেটারী করা হয়েছে নাজিম উদ্দিন ,সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে এরশাদকে, অর্থ সম্পাদক করা হয়েছে মো: ইসমাইলকে, দফতর সম্পাদক করা হয়েছে রুহুল আমিনকে, লাইন সম্পাদক কানা নাছিরকে, সদস্য করা হয়েছে যথাক্রমে দেলোয়ার, ঝুলা হামিদ, ও পারভেজকে। এখানে যাদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তারা অধিকাংশ কথিত সেক্রেটারী ও বহুল সমালোচিত হারুন অর রশিদের বাড়ীর আশেপাশের লোক। সাধারান শ্রমিকেরা জানান, শ্রমিকদের কষ্টের টাকা আতœসাৎ করতেই সুচতুর হারুন অর রশিদ তার বাড়ীর আশেপাশের লোকদের নিয়ে জেলা কমিটিকে ২লাখ টাকায় ম্যানেজ করে কমিটি বানিয়ে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ওই হারুন অর রশিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অস্বীকার করেছেন। শ্রমিকদের টাকা আতœসাৎ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে জানার জন্য কক্সবাজার জেলা সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং ১৪৯১) এর সভাপতি ছিদ্দিক আহমদের সাথে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ১৩মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পেকুয়া সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির দাখিল করা অনাস্থা প্রস্তাবের রেজুলেশনের কপি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এ নিয়ে তিনি আর কোন ধরণের কথা বলতে রাজি হননি।