পেকুয়ায় রাতের আঁধারে সড়কের গাছ লুট চলছেই: নির্বিকার বন বিভাগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:০০ অপরাহ্ণ

পেকুয়ায় রাতের আঁধারে সড়কের গাছ লুট চলছেইমুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে উপকূলীয় বন বিভাগের সৃজিত নানা প্রজাতির বিপুল পরিমাণ গাছ রাতের আঁধারে কেটে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা। গত কয়েক দিন ধরে পেকুয়া-টইটং আঞ্চলিক মহাসড়কসহ আরো বেশ কয়েকটি সড়কের দু‘পাশ থেকে দূর্বুত্তরা গাছ কেটে রাতের আঁধারে স্থানীয় অবৈধ স‘মিলগুলোতে মজুদ করে রেখেছে। তবে এ ঘটনায় নির্বিকার রয়েছে খোদ বন বিভাগ। ফলে গাছ লুটের সাথে জড়িত দূর্বূত্তরা বেপয়োয়া হয়ে প্রতিনিয়ত সড়কের গাছ নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব গাছ লুটে জড়িতদের সাথে স্থানীয় উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক বখরা আদায় করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা বন বিভাগ। তবে বন বিভাগ সে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। খোদ বন বিভাগের এহেন ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পেকুয়া-মগানাম সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে থেকে ও গত দু‘দিনে উপকূলীয় বন বিভাগের সৃজিত ৫০/৬০টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে দূর্বুত্তরা। এভাবে গাছ লুটের ফলে পরি্েবশ মারাতœক হুমকির মুখ পড়বে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার রাত ৪টার দিকে পেকুয়া-টইটং-আঞ্চলিক মহাসড়কের টইটং বাজার এলাকাসহ সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকা থেকে উপকূলীয় বন বিভাগের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক‘শ গাছ কেটে লুট করেছে দূর্বৃত্তরা। রাতেই টইটং বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে সড়কের গাছ কাটার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এসে সড়কের গাছসহ ৪জনকে আটক করে সকাল ৬টার দিকে উপকূলীয় বন বিভাগের পেকুয়ার মগনামা বন বিট কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনকে খবর দেন। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে আসেনি। পরে গাছগুলো নিয়ে দূর্বৃত্তরা সটকে পড়েন।

টইটং এলাকার বাসিন্দা নুরুন নবী, আবদুল মালেক, ছমি উদ্দিন, ইমাম উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, সড়কের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় দূর্বৃত্তদের আটক করে বন বিভাগের ওই কর্মকর্তাকে খবর দেওয়া হলেও তিনি আসেনি। পরে সকাল ১১টার দিকে টইটং বাজারে এসে গাছ লুটের সাথে জড়িতদের কাছ মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে চলে যান ওই অসাধু কর্মকর্তা। স্থানীয়রা এ ঘটনায় এ কর্মকর্তার প্রত্যাহারসহ শাস্তি দাবী করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে যোগাযোগ করা হলে উপকূলীয় বন বিভাগের পেকুয়ার মগনামা বন বিট কর্মকর্তা মো: নিজাম উদ্দিন তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের আনীত অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বলেন, তার বনবিটে জনবল সংকটের কারণে সড়কের গাছ লুট কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে উপকূলীয় বন বিটের পেকুয়া-বাঁশাখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সড়কের গাছ কাটার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।