পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও কোমেনের অাঘাতে মানবিক বিপর্যয়

প্রকাশ:| শনিবার, ১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ

মানবিক বিপর্যয়
পেকুয়া প্রতিনিধি
পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও কোমেনের অাঘাতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিেয়ছে। প্রথম
কয়েকদিনের বন্যা শুধু পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ও শীলখালীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও
ঘূর্নিঝড় কোমেন এর জলোশ্বাসে পুরো উপজেলায় পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে
সদর, মগনামা, উজানটিয়া ও শীলখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে মৎস্য
চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মোখিন হয়।
প্রাপ্ত তথ্য মতে মগনামা ইউনিয়নে প্রায় ৫হাজার একর, উজানটিয়া ইউনিয়নে
প্রায় ৩ হাজার একর ও সদর ইউনিয়নে দেড় হাজার একর মৎস্য চাষ পানিতে বেশে
বেড়াচ্ছে। কোটি কোটি টাকা মৎস্য প্রজক্টে ক্ষতির পাশাপাশি ১শ ভাগ ঘরবাড়ি
পানির নিচেই রয়েছে।এমনিতেই গত ১মাস ধরে ২ দপা নজির বিহীন বন্যায় মানুষের
কাচাঁ ঘরবাড়ি সম্পুর্ন বিলীন হয়ে যায়। তারপর গত পরশু ঘূর্নিঝড় কোমেন
অাঘাত করে পেকুয়ায়। বাতাসে গাছপালা উপটে যাওয়ার পাশাপাশি ৪/৫ ফুট পানিতে
পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। অার ওই কারনে সমস্ত মৎস্য প্রজেক্টও পানির নিচে
তলিয়ে যায়।
মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা জানান, তার পুরো ইউনিয়ন এখন পানির
নিচে। শরত ঘোনা, লম্বা ঘোনা, পশ্চিম কূল, কাকপাড়া বেড়িবাঁধ সম্পূর্ন
বিলীন হয়ে গেছে। সাগরের সাথে এলাকা মিশে গিয়ে জুয়ার বাটা হচ্ছে। অার ওই
পানিতে ৫ হাজার একরের মত মৎস্য প্রজেক্ট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, টেকপাড়া ও পেরাসিঙ্গা পাড়া
দুিট পয়েন্টে বেড়িবাধ বিলীন হয়ে সাগরের পানি এলাকায় ঢুকে পড়েছে। সাথে
প্রায় ৩ হাজার একর এর মত মৎস্য চাষ সাগরেরর পানিতে বিলীন হয়ে পড়েছে।
দ্রুত গতিতে বেড়িবাধ সংস্কার করা না হলে সাধারন জনগনের ভয়াবহ দূর্দশা
দেখার লোকও থাকবেনা।
এদিকে সদর ইউনিয়নের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এমনিতেই গত দু বন্যার সাথে
ঘূনিঝড়ের প্রভাবে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাইক্লোন সেন্টার যা অাছে
তা সামান্যই। লোক এখন খোলা অাকাশের নিচে বসবাস করার মত জায়গাও পাচ্ছেনা।
কারন সব জায়গায় পানি অার পানি।
প্রাপ্ত তথ্য মতে বাঘগুজরা বেড়িবাধ সংস্কারের কোন উদ্দেগ পানি উন্নয়ন
বোর্ড, এমপি অথবা কোন রাজনৈতিক নেতা নেয়নি। যার কারনে অবিরত পানি ডুকছে
অার বের হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা পানি বের করতে যে
বেড়িবাধ গুলো কেটে দিয়েছিল তা এখন গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর
জন্য। জুয়ারের পানি ডুকে পুরো এলাকার বসতবাড়ি অাবারো পানির নিচে। দেড়
একরের মত মৎস্য প্রজেক্ট সম্পূর্ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মানুষেন দিন
কাটছে চরম বিপন্নতায়। খাদ্য, পানি, থাকার জায়গাতো নেই তার মাঝে দেখা
দিয়েছে পানি বাহিত রোগ। সবখানে হাহাকার। অার কয়েকদিন এভাবে চললে মানুষ
মারা পড়বে। এর থেকে উত্তোরনে দ্রুত বাঘগুজরা পয়েন্টের বেড়িবাধ সংস্কার
করতে হবে।
জানা মতে ২০ লক্ষ টাকার ওই বেড়িবাধ সংস্কার না করায় ২০০ কোটি টাকার উপরে
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকাবাসীর।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফর রশিদ খান জানান, পেকুয়ার এ
ভয়াবহতা রুখতে প্রশাসনের কোন ধরনের গাফিলতা ছিলনা। অামরা চেষ্টা করেছি
দ্রুত সাধারন জনগনকে ত্রান সহয়তা পৌছে দিতে। তারপরও পেকুয়ার এ ক্ষতি চরম।
তিনি যত দ্রুত সম্ভব বেড়িবাধ সংস্কার করা হবে জানান।