পেকুয়ায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা নির্বাচনী দায়িত্বে!

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের পদবিধারী নেতাদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। এনিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব নেতাদের সরকারী টাকা খরচ করে প্রশিক্ষনও দিয়েছেন প্রশাসন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী অভিযোগ করেছেন, আগামী ২৭ ফেব্রে“য়ারী পেকুয়া উপজেলা পলিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। আর নির্বাচনে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে এসব বিএনপি-জামায়াত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪২জনকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২১৫জনকে সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া এসব প্রিজাইডিং ও সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মধ্যে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুজ্জামানও রয়েছেন। তিনি রাজাখালী বেশারাতুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক। এছাড়া চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও পেকুয়া শহীদ জিয়া উপকূলীয় কলেজের প্রভাষক মো. ফখরুদ্দিন ফরায়েজীকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়াও টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বটতলীয়া শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জয়নাল আবেদীন, শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ, স্বাস্থ্য সহকারি ও শিলখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুল কবির রাশেদ, রাজাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বকশিয়াঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রমিজ, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক বহু মামলার আসামী মো. ইমতিয়াজ উদ্দিনকে সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ২০জন বিএনপি-জামায়াত নেতাদের আত্মীয় ও সমর্থককে প্রিজাইডিং ও ৪৯জনকে সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী জানান, বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার সাথে গোপনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আতাত করে আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিতে বিএনপি-জামায়াতের দলীয় লোককে প্রিজাইডিং ও সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক ও পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। একজন সহকারি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে যেদিন নির্বাচনী সরঞ্জাম আমার হাতে আসবে, সেদিন থেকে আমার আর কোন দলীয় পরিচয় থাকবে না বলে ও এ জামায়াত নেতা উল্লেখ করেছেন!
এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেন বলেন, যাঁরা বিভিন্ন দলের পদবীধারী নেতা প্রিজাইডিং ও সহকারি কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের বাদ দেওয়া হবে।