পেকুয়ায় প্রতারক প্রেমিকের জিম্মিদশা থেকে মাদ্রাসা ছাত্রী উদ্ধার

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৭:৫০ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণের ২ দিন পর শনিবার স্থানীয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে উদ্ধার করেছে। ওই প্রতারক প্রেমিকের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য ওই মাদ্রসা ছাত্রীকে ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের নামে আটকে রাখেন। আর এই সুযোগে ঘটনার পর থেকে প্রতারক প্রেমিক পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ফকির পাড়ার আবু বক্করের মেয়ে ও স্থানীয় আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী হোসনে আরা আকতার মুন্নি (১৬) কে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সরকারী ঘোনা গ্রামের আহমদ ছবির বখাটে ছেলে নলকূপ মিস্ত্রি আরফাতের নেতৃত্বে আরো ৭/৮ জন দূর্বৃত্ত ওই ছাত্রীর বাড়ী থেকেই জোর পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এদিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে পেকুয়া-চকরিয়া সড়কের সরকারী ঘোনা এলাকা থেকে স্থানীয়রা বখাটে আরফাতসহ ওই ছাত্রীকে আটক করেন। পরে তারা বখাটে আরফাতকে ছেড়ে দিয়ে মুন্নিকে স্থানীয় ইউপি সদস্যা বিজু আক্তারের জিম্মায় দেন। পর দিন সকালে ইউপি সদস্য অপহৃত মুন্নিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে খবর পেয়ে ছ্রাত্রীর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা এসে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ নিয়ে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ বখাটে আরফাতসহ আরো কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছেন।
অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রী হোসনে আকতার মুন্নি (১৬) অভিযোগ করে বলেন, বখাটে আরফাতসহ আরো কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পথিমধ্যে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে। এর পর মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে আমাকে গত ২দিন ধরে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে আটক রাখা হয়। আমি এর বিচার চাই।
অপহৃত ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, মেয়ে ও ছেলের পক্ষকে পরিষদে ডেকে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তারা দু‘জনের বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিষয়টি থানার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পেকুয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি সমাধা করে দেওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে থানা থেকে নিয়ে গেছে তার পরিবার। যুবলীগ নেতা বিষয়টি সমাধান না করলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।