পেকুয়ায় দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

পেকুয়ায় দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগমুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় দুই শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চরমভাবে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দল থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলেও তা মানছেনা অপর শক্তিশালী দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। এ কারণেই এবারের উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভরাডুবির আশংকা করছেন তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের সাধারান নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিএনপি-জামাত একট্টা হয়ে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজুকে তাদের একক প্রার্থী হিসেবে পুনরায় মনোনয়ন দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীসহ দলের অপর বিদ্রোহী দুই প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির প্রার্থীর বিজয় অনেকাংশে নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন পেকুয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারাণ ভোটররা।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ ফেব্রে“য়ারী পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। গত ১ফেব্রে“য়ারী পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভা ডেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে একক প্রার্থী নির্ধারন করেন। সেখানে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচী ছেলে ও শীলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী ৬৮ টি ভোট পেয়ে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। আর অপর প্রার্থী যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম পান ৬৭ ভোট। পরে দলের পক্ষ থেকে ওয়াহিদুর রহমানকে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারান সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি। এবং ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচীর পক্ষে সর্বস্থরের দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারান সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেন, আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার লিখিত নির্দেশ পেয়ে ভোটাভুটি করে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী নির্ধারন করা হয়েছে। এর বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দলের একক প্রার্থীকে বিজয়ী করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ২ ফেব্রে“য়ারী রোববার মনোনয়ন পত্র জমা দানের শেষ দিনে একক প্রার্থী হিসেবে ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী পেকুয়ার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে অপর দুই প্রার্থী যথাক্রমে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম ও উপজেলা যুব লীগের সাধারান সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করতে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এ নিয়ে ফের প্রকাশ্যে রুপ নিল আওয়ামী লীগের গ্র“ফিং।
পেকুয়ায় আওয়ামীলীগের একক প্রাথী নির্ধারন করার পরেও কেন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন এ প্রসঙ্গে জানতে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারান সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে দলকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্ব ভূমিকা রেখেছেন। এবং নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে সাধারান লোকজনের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারান ভোটারদের চাপেই তিনি দলীয় একক প্রার্থীর বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি আরো জানায়, বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত পেকুয়ায় বিএনপির একক প্রার্থীকে তিনিই পরাজিত করতে পারবেন।
অন্য বিদ্রোহী প্রাথী পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বচ্ছ ইমেজের রাজনৈতিক হিসেবে সাধারান নেতাকর্মী ও এলাকায় তার গুহণযোগ্যতা রয়েছে তাই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।
পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারান সম্পাদক আবুল কাসেম জানান, দলীয় সিদ্ধানক্রমে পেকুয়ায় দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এরা আ’লীগের কেউ নন। এবং তারা আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।