পেকুয়ায় দিন দুপুরে সামাজিক বনায়নের গাছ লুঠ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:১৪ অপরাহ্ণ

উজাড় হচ্ছে বনায়ন

পেকুয়া প্রতিনিধি
পেকুয়া দিন দুপুরে সামাজিক বনায়ন উজাড় করছে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। এনিয়ে বনবিভাগ মামলার পর মামলা দিলেও বন্ধ হচ্ছেনা সামাজিক বনায়নের গাছ লুঠ।

জানা যায়, সামাজিক বনায়ন প্রথা প্রচলনের পর থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাভুক্ত টইটং, বারবাকিয়া ও পহরচাঁদা বনবিটের খতিয়ানভুক্ত বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে সরকারি অর্থায়নে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হয়। উক্ত বনায়ন প্রকল্প পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োগ দেয়া হয় শত-শত উপকারভোগী। উপকারভোগীদের রাত-দিন খাটুনি আর নির্ঘুম পাহারায় রোপিত সামাজিক বনায়নের গাছপালাগুলোও হয় পরিণত হচ্ছে ধংসের দারপ্রান্তে। ঠিক এসময় সামাজিক বনায়নগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আস্তানা গড়ে তোলে এক শ্রেণির অস্ত্রধারী অসাধু বনদস্যুচক্র। এক পর্যায়ে ওই এলাকার বিস্তীর্ণ সামাজিক বনায়নের গাছপালা সমৃদ্ধ হতে থাকলে তার ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সেখানে আশ্রিত অস্ত্রধারী বনদস্যুদের।

এসময় সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নে আশ্রয় নেয়া অস্ত্রধারী বনদস্যুরা সুযোগ বুঝে দলবল নিয়ে সশস্ত্র মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে বিভিন্নভাবে হাঁকাবকা, হুমকি-ধমকি দিয়ে নিরীহ বনবাসী ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের জিম্মি ও অতিষ্ঠ করে রাতের বেলায় নির্বিচারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের পরিণত-অপরিণত গাছাপালা নির্বিচারে নিধন-লোপাট করে পাচারবাণিজ্যে লিপ্ত হয়। এঘটনায় নিরীহ উপকারভোগীরা স্থানীয় বনবিভাগের লোকজনদের মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করে প্রতিকার কামনা করলেও মেলেনি তাদের কোনো সায়-সাড়া। ফলে সাধারণ বনবাসী ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে দেখা দেয় বিস্ময় ও হতাশা।

শীলখালী ইউনিয়নের সাপের গাড়া এলাকার সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের নামে বরাদ্দের সামাজিক বনায়ন নিধন-চুরি, লোপাটের পর বনাঞ্চলে আশ্রিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এবার বনায়নের জায়গায় ঘন অবৈধ বসতি বসিয়ে বেহাত করছে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা-জমি। একই এলাকার মৃত নুরুল হোসাইনের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান, মোজাম্মেল হকের পুত্র নবী হোসেন, আলী হোছন ও মনুর নেতৃত্বে একটি বেপরোয়া বনদস্যু সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ১৯৯/১৩ইং বন মামলাসহ তারা সকলেই একাধিক বন মামলার আসামী। এছাড়াও পেকুয়া থানা ৯১২/১৫ইং, ২২২/১৬ইং মামলা চলমান রয়েছে।


আরোও সংবাদ