পেকুয়ায় গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী আটক

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া::
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় দু’সন্তানের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে ওই গৃহবধুর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যা নাকি আত্মাহত্যা এনিয়ে ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ৬মার্চ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের দুর্গম গুদিকাটা এলাকায়। নিহত গৃহবধুর নাম আয়েশা বেগম (২৩)। তিনি ওই এলাকার মৃত ছাবের আহমদের পুত্র মোঃ ইউনুসের স্ত্রী বলে জানা যায়। স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে সাংসারিক কলহ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।

এনিয়ে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওই মহিলা। ঘটনার আগের দিন বৃহষ্পতিবার স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় স্বামী ইউনুস স্ত্রীকে প্রচন্ড মারধর করে আহত করে। ওই দিন রাতে ওই গৃহবধুর লাশ বসত ঘরের আড়ায়া ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয় এখাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবসস্থায় ওই গৃহবধুর লাশ শাশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। এনিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইউনুস পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিল। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া লেগে থাকত। ইতিপর্বে গৃহবধু আয়েশা গত ৬/৭মাস পুর্বে স্বামীর সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিল।

পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থাতায় গত কয়েকমাস পুর্বে শাশুর বাড়িতে চলে আসে। হত্যা নাকি আত্মাহত্যা এনিয়ে নানা রহস্যের দানা বেধেঁছে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ার কারনে আয়েশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে শাশুর বাড়ির লোকজন। পরে এটাকে আত্মাহত্যা বলে প্ররোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জেড.এম মোসলেম উদ্দিন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল যান। স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মাহত্যা করেছে বলে তিনি জানান।

পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মাহত্যা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। থানায় কোন মামলা কিংবা জিডি দায়ের করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।