পেকুয়ায় খালের চরের ১৬ বসতবাড়ি উচ্ছেদ

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:২৮ অপরাহ্ণ

 

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়ায় কাটাফাড়ি খালের চর দখল করে গড়ে তোলা ১৬টি বসতি উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় ভুক্তভোগিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। উচ্ছেদের বিষয়ে তাদেরকে অবগত করা হয়নিও বলে জানান তারা।

বুধবার (৬ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মগনামা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় এসব বসতি উচ্ছেদ করে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালমা ফেরদৌস।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালমা ফেরদৌস বলেন, সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের (খাল শ্রেণীর) কাটাফাড়ি খালের উপর এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে খালটি দুষিত হয়ে জলজ প্রাণীর উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও নৌযান চলাচলে ব্যাঘাত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে সরকারের তিন একর (খাল শ্রেণী) জমি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২০লক্ষ টাকা।

উচ্ছেদ হওয়া ভুক্তভোগি মঈন উদ্দিন, মীর কাশেম, রুজিনা বেগম, কবির হোছেন, মমতাজ বেগম, নেছার, লাইলা বেগমসহ আরো কয়েকজন জানান, আমরা খুবই অসহায় পরিবার। বসতবাড়ি ছিলনা। কিছুদিন আগে এয়ার মুহাম্মদ, নুর মুহাম্মদ, দুলামিয়া, কপিল উদ্দিন, আব্বাছ উদ্দিন, ফরিদুল আলম ও তাওহীদুল ইসলামের কাছ থেকে স্টাম মূলে জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি করেছি। প্রতি বসতবাড়ি করতে ৩ থেকে ৪লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আগাম কোন বার্তা না দিয়ে হঠাৎ বসতবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ায় আমাদের রাস্তায় বসবাস করা ছাড়া উপায় নাই। এছাড়াও আমাদের অনেক মালামাল গাড়ি করে নিয়ে গেছে তারা।

এ বিষয়ে তাওহীদুল ইসলাম জানান, আমার দাদার আমলে এটি খাল ছিলনা। খতিয়ানভুক্ত জমি ছিল। এক সময় এটি কেটে খালে পরিণত করে সরকার। তাতে চর জেগে ওঠায় তা অসহায় লোকদের বসবাসের জন্য দিয়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসন কোন ধরণের আগাম নোটিশ প্রদান না করে অসহায় লোকদের বসতবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। মালামাল সরাতে তাদেরকে সময় দেওয়া দরকার ছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস জানিয়েছেন, সরকারী ভূমিতে গড়ে তোলা বসতবাড়ি উচ্ছেদ করতে নোটিশ দেওয়ার দরকার নাই।

 


আরোও সংবাদ