পেকুয়ায় কৃষি ব্যাংক: যেন দালালদের স্বর্গরাজ্যে!

প্রকাশ:| সোমবার, ২৭ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার অফিস
কৃষি ব্যাংক পেকুয়া শাখা এখন এক ডজনের অধিক দালাল সেন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ায় সেবামুলুক ওই প্রতিষ্ঠানে সেবার বিপরীতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি ও গ্রাহক হয়রানির ঘটনা ঘটছে। বেশ কিছুদিন ঋণ বিতরণ ও নবায়ন বন্ধ থাকলে এখন আবার দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রনে আবারো ঋণ বিতরন করা হলে মধ্য স্বত্বভোগী ওই দালালরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের ঠকিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাংকটির নিজস্ব মাঠ কর্মকর্তা সহ ঋন বিতরণে তাদের নিজস্ব জনবল ও নিয়ম নীতি থাকলেও ওই দালালরা ব্যাংকের প্রধান কর্তা সহ একটি সেন্ডিকেটের মাধ্যমে দালাল চক্রের মনোনীতদেরই ঋন পাইয়ে দিচ্ছে বলে সাধারন গ্রাহকদের অভিযোগ। দালাল সেন্ডিকেট যাদের সনাক্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বাইরে গিয়ে ঋণদেয়ার এখতিয়ার যেন হারিয়ে ফেলেছে এমন অভিযোগ শুণা যাচ্ছে।

জানা গেছে, ঋন পেতে হলে দালাল চক্রের শর্ত মেনেই ঋণ নিতে গিয়ে ইতিপূর্বে ওই ব্যাংক থেকে যারা ঋন নিয়েছেন তারা শুধুই ঠকেছেন। পাশ ও বিতরন করা ঋণের একটি বিশাল অংক দালাল চক্রের পকেটে চলে যাচ্ছে। ঋণ গ্রহীতাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ত্রিশ হাজার টাকা নির্ধারিত লোনের মধ্যে গ্রহীতারা পেয়ে থাকেন শুধুমাত্র ১০হইতে ১৫হাজার টাকা। আর অবশিষ্ট টাকা ভাগাভাগি করে চলে যায় দালাল ও অসাধূ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে। একই ভাবে ওই ব্যাংক থেকে প্রদত্ত দশ হাজার টাকার লোনের মধ্যে গ্রাহকরা পেয়ে থাকে মাত্র ৪থেকে ৬হাজার টাকা। অপরদিকে, গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে ঋন বিতরণে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ণয় ছাড়াই অধিকতর অযোগ্যদের মাধ্যমে শুধুমাত্র দালালদের সনাক্ত করণে সরবরাহ করা হয়ে থাকে লোন। প্রয়োজনীয় সঠিক দলিল দস্তাবেদী ডকুমেন্ট গ্রহণে দেখা গেছে প্রকৃত দলিল কিংবা কাগজের মালিকদের ঋণ দেয়া হয়না অথচ যেসব ব্যক্তিরা দলিল দস্তাবেজ ভুয়া কিংবা জালিয়াতি সৃজন করে ব্যাংকে জমা দেন লোন দেওয়া হয় তাদেরকে। সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সাধারণ লোকজনের কাছে কৃষি ব্যাংকের ঋনকে এভাবে ্উপস্থাপন করে থাকে যাতে এঋন নিলে আর পরিশোধের দরকার হয়না। ঋনগ্রহীতাকে কোন কাগজ পত্র জোগাড়ও করতে হয়না। দালালরাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে দেয়। কৃষি ব্যাংক পেকুয়া শাখার নাম ভাঙ্গিয়ে উপজেলার ৭ইউনিয়নের শত শত লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই দালাল চক্র। এনিয়ে পেকুয়ায় একাধিক স্থানে দালাল চক্রের লোকজনের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা পর্যন্ত হয়েছে ।

ঋণগ্রহীতা ও পেকুয়া কৃষি ব্যাংকে সেবা নিতে আসাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সক্রিয় দালালদের মধ্যে রয়েছে পেকুয়া সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যথাক্রমে রহিমুল্লাহ, শাহ আলম, আবদুস ছালাম, আবুল কাসেম, বাচ্চু, আব্বাস মেম্বার, বাদশা মেম্বার, মোস্তাক আহমদ, নুরুল ইসলাম সহ এদের সংখ্যা এক ডজনেরও বেশি। দালাল চক্রের সহযোগীতায় লোন নিতে গিয়ে উল্লেখ যোগ্য প্রতারণার শিকার হয়েছে এমন লোকের সন্ধানও পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মফিজুর রহমান, বহদ্দারপাড়ার কবির আহমদ, মগঘোনার আবুল হোসেনসহ উপজেলার ৭ইউনিয়ন থেকে শত শত লোকজন। এদের মধ্যে উজানটিয়া ইউনিয়নের এক ব্যক্তি তার জমির দলিল দেখিয়ে অন্য ব্যাক্তিকে লোন দেয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করার খবর পাওয়া গেছে। কৃষি ব্যাংক কেন্দ্রিক এদালাল চক্র লোন নিয়ে দেয়ার জন্যে অসংখ্য লোকজনের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে মাসের পর মাস দালাল চক্রের পিছু পিছু ঘুরছে লোনটি আদায় করার জন্যে।

এ ব্যাপারে মগনামা ইউনিয়নের সামশুল আলম জানান, আমাকে লোন দেওয়ার কথা বলে ৩হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র। কিন্তু এযাবত লোনও দেননি টাকাও ফেরৎ দেননি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক পেকুয়া শাখার ম্যানেজার নাছির উদ্দিনের বাড়ী চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা গ্রামে। এই সুবাধে ওই এলাকার সাবেক সাংসদ জামায়াত নেতা শাহাজাহান চৌধুরী খুব কাছের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত নাছির উদ্দিন। সরেজমিনে সাতকানিয়ার ছদাহা গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়ার কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার নাছির উদ্দিন সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে। হরতালে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নিজ এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাদের প্রতিমাসে নির্দিষ্ট হারে অর্থ ও যোগান দেন পেকুয়ার কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার নাছির উদ্দিন। এছাড়াও তিনি পেকুয়া কৃষি ব্যাংকে সরকারী অফিস সময়ে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাদের সাথে বসে দারুণ খোশগল্পে মত্ত থাকে।

এসবের ব্যাপারে, কৃষি ব্যাংক পেকুয়ার শাখা ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগে চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি