পেকুয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক লুঠপাট

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক লুঠপাটের অভিযোগ ওঠেছে। অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসূচি সরকারের এ মহৎ উদ্দ্যেগটি প্রশ্নের কাটগড়ায় দাড়িয়েছে ইউজিপি প্রকল্প কর্মকর্তা, টেক কর্মকর্তা, পিসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সীমাহীন দূনীর্তিতে। ব্যাংকে গত ১০দিনের টাকা শ্রমিকদের কাছে বন্টন ও উপজেলার সাত ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ সরোজমিন পরিদর্শন করতে গেলে দূর্নীতির সীমাহীন চিত্র ধরা পড়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার গরীব ও অসহায় নারী পুরুষদের জন্য এ কর্মসূচিটি চালু করেছে। ইউনিয়নের ওয়ার্ড ভিত্তিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমইউপিদেরকে পিসি নিয়োগ করা হয়। প্রতি ইউনিয়নে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের টেক কর্মকর্তা। আর তাদের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে ইউজিপি প্রকল্প কর্মকর্তা নামের একজন। পিসির কাজ শ্রমিক নিয়োগ করে প্রতিদিন টেক কর্মকর্তাকে উপস্থিত ও অনুপস্থিতির এর তালিকা দেওয়া, টেক কর্মকর্তার কাজ প্রতিদিন স্ব-স্ব ইউনিয়নে সরোজমিন গিয়ে সঠিক তদারকির মাধ্যমে তালিকা ইউজিপি কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া। কিন্তু পেকুয়ায় উপজেলায় তা সম্পূর্ন ভিন্ন।

সরোজমিন উজানটিয়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে কর্মসৃজন প্রকল্পে পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, পিসির দায়িত্বে রয়েছেন মহিলা এমইউপি তসলিমা বেগম। তার অধিনে নারী পুরুষ মিলে শ্রমিক রয়েছে ২৮জন। কাজে পিসি ও টেক অফিসারকে উপস্থিত পাওয়া না গেলেও শ্রমিক উপস্থিত পাওয়া গেছে ২১জন। তাদের মধ্যে আবার ২জন চকিদার ও ১জন মাঝি। তারা কোন ধরনের কাজ করেননা। এমনকি হাজিরা খাতাও রয়েছে পিসির বাড়িতে। বিষয়টি পিসি তসলিমাকে জানালে তিনি বলেন ভাই স্বামী অসুস্থ তাই কাজ তদারকিতে যেতে পারি নাই। ২৮ জনের জায়গায় ২১ জন কেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর দেননি। কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রতিদিন তাদের ৬/৭ জন অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু হাজিরা খাতায় সবাইকে উপস্থিত দেখানো হয়। বিষয়টি ইউজিপি কর্মকর্তা পেকুয়া মো: মাহফুজকে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। ঠিক এ রকম ইউনিয়ের প্রত্যেকটি পিসির অধিনে ৪/৫জন করে শ্রমিক অনুপস্থিত থাকলেও টেক কর্মকর্তা ও ইউজিপি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তা হাজির দেখানো হয়। টইটংয়ের আয়েশা বেগম, শীলখালীর হামিদা, উজানটিয়ার ওমর ফারুকসহ বেশিরভাগ এমইউপি লুঠপাটের সাথে জড়িত। অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকার একটি ভাগ ইউজিপি কর্মকর্তা, টেক কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের শ্রমিকদের টাকা দেওয়া হয়েছে জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও ফাষ্ট সিকিরিউটি ইসলামী ব্যাংকে। ব্যাংক পরিদর্শনেও দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। শীলখালীর ১ ও ২নং ওয়ার্ডে আবদু রহিম, আনচার উদ্দিন, মো: দানু মাহফুজ, মনিরুল ইসলাম, মোস্তাক আহমদ জনতা ব্যাংক, উজানটিয়ার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে কবির, হাছন কাজে অনুপস্থিত থাকায় কৃষি ব্যাংকে টাকা নিতে না আসলেও ব্যাংক কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা আদায় করে টাকাগুলো পিসিকে দিয়ে দিয়েছে। এরকম প্রত্যেকটি পিসির ৫/৬ শ্রমিক টাকা নিতে ব্যাংকে না আসলেও তারা পিসির সাথে টাকা ভাগাভাগি করে থাকে বলে জানা গেছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন জব কার্ডে হাজিরা থাকায় তারা টাকাগুলো পিসিকে দিয়ে দিয়েছেন।

পেকুয়া ইউজিপি কর্মকর্তা মাহফুজ জানিয়েছেন, প্রকল্পে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে টেক কর্মকর্তা রয়েছে। তারা উপস্থিত ও অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখেন। প্রতি পিসির কাজ থেকে অনৈতিক টাকা আদায় করা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি অপপ্রচার বলে দাবী করেন আর উজানটিয়ার ১/২ নং ওয়ার্ডে গত ১২ তারিখের ৭জনকে অনুপস্থিত দিয়েছেন বলে জানান।


আরোও সংবাদ