পেকুয়ায় আলোচিত ঘটনায় শেষ হল ২০১৫

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০১ অপরাহ্ণ

পেকুয়া
মো: ফারুক,পেকুয়া প্রতিনিধি: আজ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হল ২০১৫ সাল। আর চরম আতংকের ওই একটি বছর পেকুয়া । জামায়াত-বিএনপির নাশকতা, পেট্রোল বোমা মেরে নিরহ মানুষ হত্যা, দা ও বোরকা বাহিনীর নৈরাজ্য, হত্যা, আত্মহত্যা, ডাকাতি, চুরি ছিনতায়, পুলিশের উপর হামলা, নারী নির্যাতন, অবিরাম পাহাড় নিধন ও বনবিভাগের গাছ নিধন ছিল নিত্য ব্যাপার। এরই মাঝে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকম শাহাবউদ্দিন ফরায়েজী, শিক্ষক ফরহাদ, নিরহ যুবক ইউনুস হত্যাকান্ড।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫সালের প্রথম দিকে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও হত্যাকান্ড ছিল ভয়াবহ। পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মালিকনাধীন ড্রাম ট্রাক পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া, পেট্রোল বোমায় পূর্ব গোয়াখালী এলাকার সর্দার আহমদের পুত্র ইদ্রিসকে নির্মম হত্যাসহ আরো ৩জন গুরুতর আহত করার পাশাপাশি ডাকাতি ছিনতায়ের ঘটনা ছিল অহরহ। পূর্ব গোয়াখালীর জাফর আহমদ হত্যা, আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার স্কুল শিক্ষক ফরহাদকে নির্মম ভাবে হত্যা করে তার চাচাতো ভাই ছালেহ জঙ্গি ছোটন। পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাকে আটক করতে পারেনি। শীলখালীতে মানিক নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। উজানটিয়া ইউনিয়নের এমইউপি আহমদ ছফার ছোট ভাই কালা বদকে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। টইটং ও রাজাখালীতে দা ও বোরকা বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে এলাকার সাধারণ জনগন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের কাছে চাঁদাদাবী, চাঁদার দাবীতে নিরহ যুবক আবদুল খালেকের পুত্র মো: ইউনুছকে নির্মম ভাবে হত্যা করে তারা। এনমকি তাদের কাছে পুলিশ প্রশাসন ছিল সম্পূর্ন অসহায়। টইিআবদুল হামিদ সিকদার পাড়ায় অপরহরণকারীর কাছ থেকে দুই অপহুতকে উদ্ধার করতে পুলিশের উপর হামলা চালায় অপহরনকারীরা। এ সময় পেকুয়া থানার এএসআই নাসিরসহ ২ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়। রাজাখালী পুলিশ ফাড়িতে গুলিবর্ষন করে আহত করে নায়েক জহিরুল ইসলামকে।

এদিকে বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা আ.ক.ম শাহাবউদ্দিন হত্যাকান্ড। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা জনপ্রিয় এ নেতাকে অপরহরন পূর্বক কৌশলে হত্যা করে রাতের আধারে। আর এ মামলাটি গোয়েন্দা বিভাগের (সিআইডি) কাছে তদন্তাধীন থাকলেও মামলার প্রধান আসামী যুবদল নেতা শাহাদত এমইউপি ও আবদু জলিল এমইউপিকে এখনো আটক করতে পারেনি।

এছাড়াও টইটং এলাকার চম্পা রানী দাশ, আয়েশা বেগম, বারবাকিয়ার জাইতুনকে হত্যা করে তার শাশুর বাড়ির লোকজন। নারী নির্যাতন, গৃহবধুর আতœহত্যা, বাল্য বিয়ে, কথিত ক্যাশিয়ার, সাংবাদিক, বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পাহাড় কেটে সাবাড় ও বনবিভাগের গাছ নিধনে ছিল অপরাধীরা ছিল বেপরোয়া। তবে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় মাদক ব্যবসায়ীরা আড়ালে ও পুলিশের হাতে আটক থাকায় মাদক ছিল কিছুটা নিয়ন্ত্রনে।

পেকুয়ার সচেতন নাগরিক মনে করে বিগত ২০১৫ সালটি ছিল পেকুয়াবাসীর জন্য অভিসাপ। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী সরকার সমস্ত বাধা বিপত্তি কেটে ওঠায় ২০১৬সালটি পেকুয়াবাসীর জন্য এক সাফল্যর বছর। এরই মাঝে উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়ায় ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র করার নীতিগত সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এটি হলে পেকুয়াবাসীর যেমন কর্মসংস্থান হবে তেমনি হবে অবকাঠামো উন্নয়ন। যার কারণে অপরাধের মাত্রাও কমে যাবে।