পেকুয়ায় আ’লীগ-যুবলীগ সংর্ঘষ, শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ, এলাকায় আতংক

প্রকাশ:| রবিবার, ৬ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের পাশে ৮০শতক জায়গা দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আ’লীগ ও যুবলীগ দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এসময় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এলাকায় ছড়িয়ে আতংক। শনিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এ দু’পক্ষের মধ্যে পেকুয়া বাজারে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ৮০শতক জায়গায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং ছরওয়ার জামান ও শাহনেওয়াজ নামের চট্টগ্রামের দুই সহযোগি ম্যানটেক প্রপার্টিজ নামের একটি ডেভলপার কোম্পানির ব্যানারে বহুতল বানিজ্যিক ভবন নির্মানের কাজ করছিল। ইতিমধ্যেই ওই ডেভলপার কোম্পানি ৮০শতক জায়গার তিন পাশে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। এদিকে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন ফরায়েজী ও সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেমসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের আরো ছয়জন নেতা ওই জমির কয়েকজন ওয়ারিশগণের কাছ থেকে ডেভলপার কোম্পানি কিছু অংশসহ তিন একর জায়গা আমমোক্তার নামা মূলে ক্রয় করেন। এবং তাদের নামে রেজিষ্ট্রি ও করেন।
স্থানীয় লোকজন আরো জানিয়েছেন, ওই ৮০শতক জায়গা নিয়ে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ দুই পক্ষের মধ্যে সপ্তাহখানেক ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এতে এলাকার লোকজন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সাধারান সম্পাদক নেতা জাহাঙ্গীর আলম পক্ষের লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করলে পেকুয়া বাজার ও আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আম মোক্তারনামামূলে যারা তিন একর জায়গা ক্রয় করেছেন তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় শত শত এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাত দেড় টায় ওই জমি দখলমুক্ত করে। এসময় অজ্ঞাতনামা কিছু সন্ত্রাসী আড়ালে থেকে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করলে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাতের আঁধারে স্থানীয় দুই শতাধিক লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের মালিকানাধীন ডেভলপার প্রতিষ্টানের পাকা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। এসময় অফিস কক্ষেও ভাংচুর চালায় তারা।
তবে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ওই জায়গার প্রকৃত মালিকেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে দখল উচ্ছেদ করেছে। ওই যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারাণ জনগণের জমি জবর দখলের সাথে জড়িত রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভলপার কোম্পানির জায়গা দখল বেদখল নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার সময় পুলিশ গিয়ে দু’পক্ষকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।