পেকুয়ায় আ’লীগ কর্মীকে পিঠিয়ে পুলিশে দিল যুবদল নেতা!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে নির্দয় পিঠিয়ে পুলিশে দিল যুবদল নেতা! এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার রাতে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্ত করেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও স্বাস্থ্য সহকারী মুনিরুল কবির রাশেদ কয়েক মাস পূর্বে শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় লক্ষাধিক টাকা বরাদ্ধের সাঁকোরপাড় ষ্টেশন হতে জারুলবনিয়া সংযোগ সড়কের বিধ্বস্ত অংশের মেরামতের কাজ ভাগিয়ে নেন। ওই প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়নকালে যুবদল নেতা রাশেদ চরম অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ওই সড়কের পুরাতন ইট খুলে নিয়ে লোপাটের চেষ্টা চালান। এসময় শিলখালী ইউনিয়নের হাজীরঘোনা গ্রামের মৃত শাহ আলমের পুত্র ও আওয়ামী লীগ কর্মী নেজাম উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন লোক যুবদল নেতাকে ইট লোপাটে বাধা দেয়। পরে নেজাম উদ্দিন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সড়কের ইটলোপাটের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আওয়ামী লীগ কর্মী নেজাম উদ্দিনের পরিবার অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনাকে পুজি করে যুবদল নেতা মুনিরুল কবির রাশেদসহ কয়েকজন দৃর্বৃত্ত গত সোমবার রাতে তার বাড়ীতে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে তুলে বেদম মারধর করেন। এক পর্যায়ে পেকুয়া থানার বহুল আলোচিত দারোগা মকবুল হোসেনের পেট্টোল ডিউটি চলাকালে তাকে মোবাইলে ডেকে নেজাম উদ্দিনের বাড়ীতে নিয়ে যান যুবদল নেতা রাশেদ। ওই দারোগা নেজাম উদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে কোন মামলা ছাড়াই আটক করে গভীর রাতে থানায় নিয়ে আসেন। পরে সকালে যুবদল নেতা মুনিরুল কবির রাশেদ থানায় ছুটে গিয়ে দারোগা মকবুল হোসনকে আটক আ’লীগ কর্মীকে নির্যাতনের জন্য মোটা অংকের ঘুষ ধরিয়ে দেন। ঘুষ পেয়ে অতি উৎসাহী ওই দারোগা আটক আ’লীগ কর্মী নেজামকে থানা হাজতে ব্যাপক নির্যাতন চালান। আ’লীগ কর্মী নেজামের মা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা থানায় ছুটে গিয়ে সাক্ষাত করলে থানা হাজতে আটক আ’লীগ কর্মী নেজাম তার উপর পুলিশের চরম নির্যাতনের বিষয়টি তাদের অবহিত করেন।
পেকুয়া থানা হাজতে আটক কর্মীকে নির্যাতনের সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা থানায় এসে পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আটক আ’লীগ কর্মী নেজামকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আন্নরআলী মাতবরপাড়া এলাকার মাষ্টার নুরুল ইসলামের পুত্র আনোয়ার সাদাতের বাড়ীতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সংশ্লিষ্ট থাকার কথা উল্লেখ করে আসামী সাজিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া থানার এস আই মকবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই আ’লীগ কর্মীকে আটকের কথা স্বীকার করলেও নির্যাতনের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। পেকুয়া থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে কোন ধরনের কথা বলতে রাজি হননি।
কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া জানান, পেকুয়া থানা হাজতে আওয়ামী লীগ কর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত করেই দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরোও সংবাদ