পেকুয়ায় আলীগের ভরাডুবির নেপথ্যে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি::
সদ্য সমাপ্ত ২য় দফা ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার। ওই ইউপি নির্বাচনের ৭ইউপির মধ্যে ২টিতে জিতে হেরেছে ৫টিতে। কেন হেরেছে এ নিয়ে এলাকায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা আর ক্ষোভ। এমনকি স্ব-স্ব ইউনিয়নে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে যে সমস্ত উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীও উঠেছে। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিজয় হয়েছে উজানটিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহ প্রার্থী শহিদুল্লাহকে হারিয়ে টইটং ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য ৫টির মধ্যে বারবাকিয়াতে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাশেম জামায়াত মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরেছে মাত্র ৩২৬ ভোটের ব্যবধানে। অন্য ৪ইউপিতে ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে নৌকা প্রতীকের। মগনামায় ৪র্থ স্থান ১৭৮০, শীলখালী ১৫৩২, সদরে ৩৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ও রাজাখালীতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহ প্রার্থীর কাছে ১৫১৮ ভোটের ব্যবধানে হেরেছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
সরোজমিন নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারবাকিয়া ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে একই দলের দলীয় নেতারা। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল শামা তার স্ত্রী রোজিনা বেগমের ৪,৫,৬ (মহিলা আসন) বিজয় নিশ্চিত করতে নৌকার প্রচারণা থেকে বিরত ছিলেন এবং জামায়াতের প্রার্থীর সাথে গোপনে আতাত করেছেন। এমনকি ওই তিন কেন্দ্রে তার স্ত্রী প্রায় ১৪শ ভোট পেয়ে মহিলা এমইউপি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীও পেয়েছে প্রায় ১৪শ ভোট। অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওই ৩ কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পেয়েছে ২৫২ ভোট। অথচ এ ওয়ার্ড গুলোতে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগি সংগঠনের কমিটি রয়েছে। তাদের রয়েছে ৫শত উপরে নিজস্ব কর্মী সমর্থক। আর তারাই নৌকা প্রতীকে ভোট দানে বিরত ছিলেন। এমনকি ভোটের দিন রাতে সভাপতি আবুল শামা, যুবলীগ নেতা মো: ফোরকান ও কপিল উদ্দিন বিশাল শোডাউন করে জামায়াত প্রার্থীকে ফুলের মালা বরণ করে বারবাকিয়া নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের দূর্ঘ হিসাবে খ্যাত ৭,৮,৯ (মহিলা আসন) ওয়ার্ড কেন্দ্রে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম ভোট করায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত ছিলেন। বিশেষ করে ওই নেতার নিজস্ব ওয়ার্ড ৭নং কেন্দ্রে জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছে ৪৯৪ ভোট আর নৌকা পেয়েছে ৩৮৭ ভোট। ঠিক আ.লীগ নেতার স্ত্রী ১৮২৪ ভোটে বিজয় লাভ করলেও নৌকা ভোট নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছে ১৭০৫ ভোট। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী এ তিন কেন্দ্র থেকে ৯২৪ ভোট আদায় করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হোসেন (বিএ) নিজস্ব ওয়ার্ড ৮। এখান থেকে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছে ২৯০ ভোট। ১,২,৩ নং কেন্দ্রে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য মাশেক আহমদসহ দলীয় ছাত্রলীগ নেতারা থাকার পরও ৩নং কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে ২০৩ ভোট কম পেয়েছে নৌকা প্রতীক। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়া হিসাবে খ্যাত ২নং ওয়ার্ডের নাজিরী পাড়া কেন্দ্র থেকে ৩১৩ ভোট আদায় করেন চশমা প্রতীকের প্রার্থী।
একই ভাবে মগনামা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাইরুল এনাম দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন ও আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুছ চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীকে যোগ দিয়ে ভোটের ময়দানে থাকায় এবং অনেক নেতাকর্মী তাকে সমর্থন দেওয়ায় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ৪র্থ স্থান লাভ করে। রাজাখালীতে সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার আজমগীর চৌধুরী সচ্ছ প্রার্থী হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এরপরও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছৈয়দনুর কয়েকটি কেন্দ্রে বলয় সৃষ্টি করায় নৌকা প্রতীকের সাধারণ সমর্থকরা ভোট দানে বিরত ছিল। এছাড়াও ছৈয়দনুর এককালে খারাপ পরিচিতি থাকায় ভয়ে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মী নৌকার পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত ছিল। আর শীলখালীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর কালো টাকার কাছে হেরে গেছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজিউল ইনসান। দলীয় নেতাকমীরা তার কালো টাকার বিক্রি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সদরে ধানের শীষে প্রতীকের প্রার্থীর কাছে প্রশাসন বিক্রি হওয়া, কালো টাকা ছড়াছড়ি, দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশী নির্যাতন ভোটে হারার প্রভাব পড়েছে বলে এ্যাড: কামাল হোসেন জানান।
এ বিষয়ে বারবাকিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিএম কাশেম জানান, আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে আমার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল শামা, সম্পাদক কামাল হোসেন ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতা মো: হোসাইনসহ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো: মাশেক। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগ নেতার আপন চাচাতো ভাই মহিউদ্দিন চট্রগ্রাম মহানগরের জামায়াতের গুরুতপূর্ন নেতা। নির্বাচনের আগে তাদের পক্ষের লোকেরা নৌকা প্রতীক না পাওয়া ও নিজ নিজ স্ত্রীদের মহিলা এমইউপি নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে জামায়াত প্রার্থীর সাথে গোপন আতাতসহ র্ধমান্ধ বিশ্বাসে মহিলা পুরুষদের ধোকা দিয়ে ভোট আদায় করা আমার পরাজয়ের এক মাত্র কারণ। তারা এক হয়ে কাজ করলে আমাকে ৩শ(৩২৬) ভোটের ব্যবধানে হারতে হতোনা।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবী প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বাস ঘাতকতা না করলে বর্তমান উন্নয়নের ধারাবাহিতকায় ৭ইউপিতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হতো। কি কারণে তারা হেরেছে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের হস্তেক্ষেপ কামনা করেছেন।