পেকুয়ায় অন্তঃস্বত্বা গৃহবধুকে মারধর: মামলা

প্রকাশ:| রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়ায় অন্তঃস্বত্বা মাসুমা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধুকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে দূর্বৃত্তরা। ওই সময় দূর্বৃত্তের হামলার আঘাতে তার ৮ মাসের গর্ভের সন্তানও মৃত প্রসব করে। সে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকার জামালা হোছাইনের কন্যা ও মগনামা ইউনিয়নের বাজার পাড়া এলাকার নুর মুহাম্মদের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ নভেম্বর টইটংস্থ তার পিত্রালয়ের বসতবাড়িতে। ১২দিন চিকিৎসায় থাকার পর ১০ ডিসেম্বর আহত মাসুমা বেগম বাদী হয়ে ১০ দূর্বৃত্তকে বিবাদী করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কক্সবাজার সদর (চকরিয়া-পেকুয়া-কুতুবদিয়া) সার্কেল মাসুদ আলমকে তদন্তের দায়িত্ব অর্পন করে আদালত।

মামলার আর্জি সূত্রে জানা যায়, গৃহবধু মাসুমা বেগম ৮ মাসের অন্তঃস্বত্বা পার হওয়ার পর নিরাপদ সন্তান প্রসব করার লক্ষ্য তার স্বামীর বাড়ি থেকে পিত্রালয়ের টইটংয়ের বসতবাড়িতে চলে আসে।

কিন্তু গত ২৮ তারিখ পূর্ব শূত্রতার জের ধরে টইটং মৌলভী পাড়া এলাকার শাহাবউদ্দিন, শাহলম, ইসমাইল, সাকের আহমদ, জাকের হোছাইন, মোতাহেরা বেগম, খুরশিদা বেগম, আলী আজগর, কামাল উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম মুনিয়াসহ সংগবদ্ধ ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই গৃহবধুর পিত্রালয় জামাল হোছাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় মাসুমা বেগম তার বোন উম্মে কুলসুম শিবলী ও তার মা সালেহা বেগম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে হামলা চালিয়ে আহত করে এবং অন্তঃস্বত্বা মাসুমা বেগমের তলপেটে লাথির আঘাতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। সাথে সাথে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও ৪ ডিসেম্বর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।

৫ ডিসেম্বর হাসপাতালের চিকিৎসক বাচ্চার অবনতি দেখা দিলে তাকে চকরিয়াস্থ জমজম হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফী পরিক্ষা করলে বাচ্চা নষ্ট হওয়ার আলামত দেখা দিলে ৬ ডিসেম্বর তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে ৮ ডিসেম্বর আহত মাসুমা বেগম সদর হাসপাতালেই মৃত সন্তান প্রবস করে। ১০ ডিসেম্বর চকরিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

আহত মাসুমা বেগমের বোন উম্মে কুলসুম শিবলী জানান, পূর্ব শূত্রতার জের ধরে গত ২৮ তারিখ উপরে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা সংগবদ্ধ হয়ে আমাদের পিত্রালয়ে হামলা চালালে অন্তঃস্বত্বা বোন মাসুমা বেগম গুরুতর আহত হয়। পরে ৮ ডিসেম্বর মৃত সন্তান প্রসব করলে আদালতের আশ্রয় নিয়। ওই সন্ত্রাসীরা এতোই প্রভাবশালী মামলা করার পরও প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আমরা শঙ্কিত রয়েছি। যে কোন মূহর্তে তারা আবারো বড় ধরণের হামলা চালাতে পারে। আমরা এ বিষয়ে পেকুয়া থানা ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।