পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুঁয়া সনদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারী বিধিবর্হি:ভূত ভাবে ভূয়া অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলায় এই শিক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলে শীর্ষে অবস্থান করে আসছে অনেক বছর ধরে। এই বিদ্যালয়েই প্রধান শিক পদে মোঃ ইব্রাহিম এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরা পড়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক প্রধান শিক পদের জন্য শিকতার অভিজ্ঞতার পূর্ণ ১২(বার) বছর বিধান থাকলেও এই প্রার্থীরেে ত্র তা অনুসরণ করা হয়নি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হোসেন বিধি অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই না করে ১২(বার) বছর শিকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও গত ইউপি নির্বাচনে তার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এ অযোগ্য প্রার্থীকে পরীায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দিয়ে লোকদেখানো পরীা নিয়ে তড়িগড়ি করে প্রধান শিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন যা সরকারী শিানীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সুত্র জানায়, ওই বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষক মো: ইব্রাহিমের ১২বছর অভিজ্ঞতা না থাকায় চাকুরী জীবনের প্রথম দিকে অফিস সহকারীর এম.পি.ও পত্রকে জালিয়তি করে মাদ্রাসার সুপারকে ম্যানেজ করে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে সহকারী শিক হিসেবে দেখিয়ে প্রধান শিক পদে আবেদন করেন। ওই প্রধান শিকের সাথে কক্সবাজার জেলা শিা অফিসার জসিম উদ্দিনের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। শুধু শিলখালী উচ্চবিদ্যালয়ে নয়, পেকুয়ার রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক হিসাবেও এক সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক, শিাসচিব, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপরে কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক পদে আবেদনকারী শিলখালী নিবাসী শাহাদত উসমান।
অভিযোগকারী শাহাদাত উসমান আরো বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কাজে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রা করার নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সভাপতি নিজে উক্ত পরীার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আবেদনকারী হিসাবে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘উত্তরপত্রে গোপন কোড নাম্বারের লিপি না লাগিয়ে সরাসরি প্রার্থীর নাম ও ঠিকানা উত্তরপত্রের শুরুতে আবেদনকারীর নিকট থেকে লিখিয়ে নেয়ার ফলে উত্তরপত্র সনাক্ত করতে পারায় মূল্যায়ন যথাযথ হয়নি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছের লোক হিসেবে পরিচিত এবং একই এলাকার বাসিন্দা মাস্টার মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ পদে নিয়োগ পাওয়ায় অভিভাবকগণ বিস্মিত এবং ুদ্ধ হয়েছেন।
জানা গেছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম ইতোপুর্বে পটিয়ার শেয়ান পাড়া হাজী আব্দুল খালেক আমেরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে তিনবছর কর্মরত ছিলেন। ওই মাদরাসার সুপার মৌলানা আহম্মদ হালিমি বলেন, ইব্রাহিম তার মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে ৩বছর ছিলেন একথা সত্য। কিন্তু তাকে সহকারী শিক হিসেবে তাকে (ইব্রাহিম) দেয়া অভিজ্ঞতার সনদ দেখালে তিনি বলেন ,‘তিনি অফিস সহকারী হিসেবে এম.পি.ও হলেও সহকারী শিক হিসেবে কিছু দিন ছিলেন। কিন্তু কত দিন সহকারী শিক হিসেবে ছিলেন তা জানতে হলে চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিাকর্মকর্তার লিখিত অনুমতি লাগবে বলে তিনি সাংবাদিকদের শর্তজুড়ে দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিলখালী উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হোসাইন সাংবাদিকদের জানান,‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক নিয়োগের কাগজপত্র বাছাই ও পরীক্ষার বিষয়টি জেলা শিক্ষাা কর্মকর্তার হাতে ছিল, এতে আমার করার কিছু ছিলনা।
এবিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এম.পি.ও পত্র জালিয়াতির বিষয়টির প্রসঙ্গ তুলতেই তার মুঠোফোনের (০১৭১৩৩৫৫৪৪১) লাইন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষক পদে অপর প্রার্থীরা অভিযোগ করেন,‘ ১৫ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীায় লিখিত পরীায় প্রথম হওয়া প্রার্থীকে মৌখিক পরীায় কম নাম্বার দিয়ে দ্বিতীয় করা হয়। এভাবে অদ, অযোগ্য এবং বিদ্যালয়ের কনিষ্ঠ শিক ইব্রাহিমকে মৌখিক পরীায় বেশি নাম্বার দিয়ে প্রথম করে প্রধান শিক পদে নিয়োগ দেয়ার ঘটনাটি সরকারের শিক্ষানীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রর্দশনের সামিল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিযোগ পরীক্ষায় তিনি অফিস সহকারীর হিসেবে চাকুরীর অভিজ্ঞতা সনদ দেখাননি। প্রধান শিক নিয়োগেরেে ত্র যথাযথ কাগজপত্র ও অভিজ্ঞতার সনদ দেখিয়ে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবি করেন।