পেকুয়ার রাজাখালীর ৩০ হাজার মানুষ ছৈয়দ নুর বাহিনীর কাছে জিম্মি

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ জুন , ২০১৪ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

পেকুয়া-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি>>
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রাজাখালীর ৩০হাজার মানুষ দূর্ধর্ষ ছৈয়দ নুর বাহিনীর নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকার নিরীহ মানুষ এ বাহিনীর সীমাহীন অত্যাচার জোর-জুলুমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। অনেকেই ছৈয়দ নুর বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদি উদ্দিন পাড়া গ্রামের মৃত কাছিম আলীর পুত্র এককালের দূর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার ছৈয়দ নুর সম্প্রতি সময়ে এলাকায় ৫০/৬০জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে সাধারান মানুষদের জায়গা-জমি জবর দখল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ছৈয়দ নুর বাহিনীর প্রধান ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে পেকুয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। আর এদিকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসব ছৈয়দ নুর বাহিনীর অপকর্ম বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা। এনিয়ে স্থানীয়রা পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন পূর্বে রাজাখালী এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের মালিকানাধীন প্রায় একশ একরের একটি চিংড়ি ঘের ছৈয়দ নুর বাহিনীর লোকজন রাতের আধারে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জবর দখল করে নেন। আর চিংড়ি ঘের জবর দখল করে ক্রান্ত হননি ছৈয়দ নুর বাহিনী। এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের কার্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের মোতায়াল্লীর কার্যকারক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পেকুয়ার ইউএনও মীর শওকত হোসেনকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছৈয়দ নুর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার ভাই বহু মামলার আসামী নুরুল আবছার বদু, জাহাঙ্গীর আলম এলাকার সাধারান মানুষদের জিম্মি করে প্রতিনিয়িত অপরাধ কর্মকান্ড চালালেও প্রশাসন কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এছাড়াও প্রতিনিয়িত ডাকাত ছৈয়দ নুরসহ তার বাহিনীর লোকজন রাজাখালী সবুজ বাজার, বামুল পাড়া, আরবশাহ বাজারসহ পেকুয়া-কুতুবদিয়ার পুরো উপকূলজুড়ে নানান অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ বাহিনীর সদস্যরা রাজাখালীতে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করে। এ নিয়ে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। কেউ ছৈয়দ নুর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে নির্যাতনের খ্ডক।

পেকুয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ছৈয়দ নুর বাহিনীর প্রধান ছৈ^য়দ নুর এককালে কক্সবাজার আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সর্দার ছিলেন। প্রায় ১২/১৪ বছর জেলে থাকার পর কয়েক বছর পূর্বে জামিনে বেরিয়ে আসে ছৈয়দ নুর। তার বিরুদ্ধে পেকুয়া প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় কয়েকটিতে গ্রেফতারী পরোয়ানা ও রয়েছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ছৈয়দ নুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মানুষের বিরুদ্ধে থানায় তো মামলা থাকতে পারে। একসময় ডাকাত ছিলাম। কিন্তু এখন ভাল হয়ে গেছি। এলাকায় আমার নেতৃত্বে কোন ধরণের সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। এসব আমার বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।

পেকুয়া থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান জানান, কোন সন্ত্রাসী অপরাধীদের পুলিশ ছাড় দিবেনা। তিনি বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এদিকে স্থানীয়রা রাজাখালী ইউনিয়নের জননপ্রতিনিধি ও সচেতন সুশীল সমাজ জরুরী ভিত্তিতে উপকূলের দূর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার ছৈয়দ নুর ও তার বাহিনীর লোকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার আজাদ মিয়ার কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।