পেকুয়ার তিন ইটভাটায় অবাধে পুড়ানো হচ্ছে সরকারী বনাঞ্চলের কাঠ ও গাছ!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনের এক কিলোমিটারের মধ্যে অবৈধভাবে স্থাপিত তিন ইটভাটায় অবাধে পুড়ানো সরকারী বনাঞ্চলের কাঠ ও গাছ। গত কযেক মাস ধরে ওই তিন ইটভাটার মালিকরা দেদারসে বনের কাঠ ও গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরীর কাজ চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলে স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন টইটং বনবিটের সংরক্ষিত সরকারী বনের এক কিলোমিটারের ভিতরেই ইটভাটা নীতিমালা উপেক্ষা করে স্থাপিত আহমদ নবী কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ইটভাটা ,সাহাব উদ্দিন কোম্পানীর মালিকানাধীন ইটভাটা ও বারবাকিয়া বন বিটের এক কিলোমিটারের মধ্যেই স্থাপিত অপর একটি ইটভাটায় কাচা ইট পুড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাশ্ববতী বনাঞ্চলের কাঠ ও গাছ। এসব ইটভাটা মালিকরা কৌশলে ইটভাটার সামনে কিছু কিছু কয়লার স্তুপ করে রেখেছে; যাতে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কোন কর্তাবাবুরা ইটভাটা পরিদর্শনের কালে বুঝতে পারেন ইটভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পুড়ানো হচ্ছে!

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওই তিন ইটভাটার মালিকরা প্রতি রাউন্ড ইট পোড়ানোর সময় ভাটায় কাচা ইটের প্রতি সারিতে বিপুল পরিমান গাছ ও কাঠ ব্যবহার করছে। ইটভাটায় কাঠ ও গাছের স্তুপ না রেখে কৌশলে ভাটার মালিকরা গোপন স্থানে মজুদ করে রাখেন। আর রাতের আঁধারে বন বিভাগ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপন স্থান থেকে গাছ ও কাঠ ট্রলিতে ভরে নিয়ে আসে ইটভাটায়। এরপর সেই কাঠ ও গাছ ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে ইট তৈরী করা হচ্ছে। অথচ সরকারী ইটভাটা নীতিমালা অনুযায়ী ইটভাটা সমূহে গাছ ও কাঠ দিয়ে ইট পুড়ানোর সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ রয়েছে। কয়লা দিয়ে ইট পুড়নোর জন্য ইটভাটা মালিকদের প্রতি সরকারের সুষ্পষ্ট ্নির্দেশনা রয়েছে। তবে পেকুয়ার ওই তিন ইটভাটার মালিকরা কয়লা সংকটের অজুহাত তুলে গাছ ও কাঠ দিয়ে ইট পুড়ানোর কাজ চালিয়ে য”চ্ছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত কিছু গোছচোর সিন্ডিকেট ওই তিন ইটভাটা মালিকের কাচ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে রাতের আধারে সরকারী বনাঞ্চলের গাছ কেটে ইটভাটায় পাচার করে। ফলে দিন দিন বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের সরকারী বনাঞ্চল বৃক্ষ শুন্য হয়ে বিরাণভূমিতে পরিণিত হচ্ছে। ফলে মারাতœক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।

এ ব্যাপারে বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তম কুমার পাল জানান, ইটভাটাগুলোতে বনের কাঠ ও গাছ পুড়ানোর বিষয়টি তদন্ত করে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ