পেঁয়াজসহ ভোগ্য পণ্য আমদানি ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়

প্রকাশ:| রবিবার, ২৫ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ

chamber-ctg0পেঁয়াজসহ অন্যান্য ভোগ্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের একক বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায় সরকার।

বিকল্প বাজারের খোঁজে তিন সদস্যের একটি দল কয়েকেদিনের মধ্যেই মায়ানমার যাচ্ছেন। রোববার বিকেলে চট্টগ্রামে এক সভায় একথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়।

তিনি বলেন, ভোগ্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কেবল ভারতের বাজারের উপর নির্ভর করলে চলবে না। তাই পাশ্ববর্তী অন্যন্যা দেশ থেকে আমদানি করা যায় কিনা তা ভাবছে সরকার।

এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি ও ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়নে গঠিত তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল কয়েক দিনের মধ্যে মায়ারমার যাবে।

সম্প্রতি হঠা‍ৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিয় সভার আয়োজন করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

মতবিনিময় সভায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় টিসিবির প্রস্তুতি না থাকায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল সংস্থাটিকে আরো শক্তিশালী করার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকার সারা বছর টিসিবিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না। বিশেষ ক্ষেত্রে এ সংস্থা উদ্যোগ নেয়।

তিনি বলেন,‘সরকার ও ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ভোগ্য পণ্য যৌক্তি দামে বিক্রি করা।‘

সভায় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদেরও অভিমত ছিল ভোগ্য পণ্য আমদানিতে ভারতের বিকল্প বাজার খোঁজা।

তারা বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে ভোগ্য পণ্য আমদানিতে ভারতের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান ও মায়ানমার হতে পারে উপযুক্ত বাজার।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘কেবল একটা দেশের উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। মায়ানমারে প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন উতপাদন হয়। পাকিস্তান থেকেও আমদানি করা যায়।‘

এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মনোজ কুমার রায় বলেন, সরকারও ভারতের বিকল্প বাজার খুঁজছে। বিষয়টি জানাতেই আমার চট্টগ্রাম ছুটে আসা।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। বাড়া এবং না বাড়ার পেছনে যুক্তিও দেখানো হচ্ছে। এরপরও আগামী ঈদুল আযহার আগে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম কিভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সেজন্যই এ সভা।

তিনি জানান, দেশে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। চাহিদা অনুযায়ী ঘাততি থাকে ৫ লাখ টন। গত বছর ভারত থেকে ৫ লাখ টন আমদানি করা হয়েছে।

‘সম্প্রতি হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়াতে বাংলাদেশে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যায়।’

ভারতে দাম বাড়ানোর পেছেনে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে উল্লেখ চেম্বার সভাপতি আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি জোর দেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় টিসিবির পরিচালক আবু সৈয়দ এম হাশিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন(সার্বিক) এসএম আবদুল কাদের, সিএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মো. সুজায়েত ইসলাম, চেম্বার পরিচালক একেএম আক্তার হোসেন, মাহফুজুল হক শাহ, খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.ইদ্রিস, পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো.আবছার উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, এমএ মোতালেব, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী, মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন চৌধুরী, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ক্যাব, বিএসটিআই ও চসিক প্রতিনিধি, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।