পূর্ব রাউজান স.প্রা. বিদ্যালয়ে শিক্ষক সল্পতায় পাঠদান ব্যহত

প্রকাশ:| বুধবার, ১৭ জুলাই , ২০১৩ সময় ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।
রাউজানের পূর্ব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই তিন বৎসর ধরে,৮জন শিক্ষকের স্থলে ৬ জন শিক্ষক p rawjan g p schoolথাকলেও একজন ট্রেনিংয়ে একজন মাতৃত্ব ছুটিতে, ২ শত ৬৯ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে রয়েছে চারজন শিক্ষক। রাউজান উপজেলার ৭ নং রাউজান ইউনিয়নের পুব রাউজান, রশিদর পাড়া, জয়নগর বড়–য়া পাড়া, কেউটিয়া এলাকার দেড় সহস্রাধিক পরিবারের ছেলে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রয়েছে একমাত্র বিদ্যালয় পূর্ব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । পূর্ব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২০১০ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে । আটজন শিক্ষকের স্থলে বর্তামানে শিক্ষক রয়েছে ছয়জন । ছয়জন শিক্ষকের মধ্যে সুবর্ণা বড়–য়া মাতৃত্ব ছুটিতে বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রশিক্ষনে রয়েছে । দুইশত উনসত্তর জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে চার শিক্ষক পাঠদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । শিক্ষকের স্বল্পতার কারনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হয়ে আসছে । পূর্ব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুমি বিশ্বাস বলেন, গত ২০১০ সালে শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আমি পূর্ব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছি । আমি এই বিদ্যালয়ে আসার পুর্বে থেকে স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই । সহকারী শিক্ষক শুশোন ধর ভারভাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছে । আট জন শিক্ষকের স্থলে ছয়জন শিক্ষক দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে । ছয়জনের মধ্যে সুর্বণা বড়–য়া মাতৃত্ব ছুটিতে, বিশ্বজিৎ চৌধুরী ট্রেনিংয়ে রয়েছে । চারজন শিক্ষকের মধ্যে বিদ্যালয়ের কাজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ সরকারী অফিনে যাতায়াত করতে হয় । তিন শিক্ষক সুমি বিশ্বাস নিজেই,গীতা রাণী দে ও শিল্পি চৌধুরী প্রতিদিন দুইশত উনসত্তর জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হয় বলে জানান শিক্ষিকা সুমি বিশ্বাস । শিক্ষকের স্বল্পতার কারনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে দাবী করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুল ছালাম বলেন । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শুন্য পদ পুরণ ও সহকারী শিক্ষকের পদ পুরণ করতে প্রতিনিয়ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধর্ণা দিয়ে বেড়ালে ও তার পুরণ করা হচ্ছেনা । পূর্ব রাউজান রসিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দ্বা স্কুল পরিচলনা কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন রাউজান উপজেলা সদরের মধ্যে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ পরিপুর্ণ থাকলে ও রাউজানের দূগম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে । রাউজানের বিভিন্ন এলাকার কয়েক জন অভিভাবকের সাথে কথা বলৈ জানা গেছে, শিক্ষকেরা রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের মাধ্যমে তদবীর করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নত এই সব বিদ্যালয়ে সারা বছরই থেকে যায় । এসব শিক্ষকের আর কোন বিদ্যালয়ে বদলী করতে ভয় পায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ । রাউজানের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে যে সব শিক্ষক রয়েছে তারা অধিকাংশ রাউজানের বাসিন্দ্বা পরিচয়ে চাকুরী পেলে ও অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকা বসবান করে চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের ছেলে মেয়ে ও রাউজানের কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেনা । চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের ছেলে মেয়েদেরকে নগরীর নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্টানে লেখাপড়া করাচ্ছে । গ্রাম বাংলার দূগম এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষক শিক্ষিকা যারা চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন তারা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসেনা বলে ও অভিযোগ রয়েছে । রাউজান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশিদ ভূইয়া পূব রাউজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষরকর পদ শুন্য থাকার কথা স্বীকার করে বলেন এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা চলছে । রাউজানের দূগর্ম এলাকার বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষকের শুন্য পদ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশিদ ভূইয়া তা এড়িয়ে যায় । নিরীহ প্রকৃতির শিক্ষক শিক্ষিকা রাউজানের র্দূগম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বছরের পর পর দায়িত্ব পালন করলেও তারা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত বিদ্যালয় গুলোতে বদলী হয়ে আসা তাদেও জন্য কষ্টকর । যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সব সময় বছরের পর বছর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশিবার্দপুষ্ট শিক্ষক শিক্ষিকারা দায়িত্ব পালন করছে ।