পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট , ২০১৭ সময় ১১:২৭ অপরাহ্ণ


খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি:
গত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও নৌকা প্রতিকের বিরোধীতা করায় জেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক বলে অভিযুক্ত মোঃ জাহেদুল আলম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিসয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ। এবং আওয়ামীলীগকে আম্ভা লীগ বলে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচিত পৌর মেয়র রফিকুল আলমের লালিত গুন্ডা-সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারিরা।

বৃহস্পতিবার ৩ আগস্ট দুপুরে জেলা সদরের কদমতলীস্থ জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন। আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত জাহেদুল আলম তার ছোট ভাই মেঃ দিদারুল আলম, জহির উদ্দিন ফিরোজ, মোঃ নুুরুন্নবী এবং আওয়ামীলীগকে আম্ভা লীগ বলে গালি দিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচিত পৌর মেয়র রফিকুল আলমের লালিত গুন্ডা-সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন সময় হামলা করে আহত করেছে জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীকে। তাদের মধ্যে অনেকে আজ পংগুত্ব বরণ করেছে। সর্বশেষ দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ১ লা আগস্ট শোক র‌্যালি থেকে বাড়ী ফেরার পথে জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ মিয়া ও তার জামাতা হেলালকে কুপিয়ে আহত করে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে গেলে তদন্তের নামে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করে জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্র“ চৌধুরী অপু বলেন। ইতিপূর্বে খাগড়াছড়িজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরার নামে বিনা তদন্তে মিথ্যা মামলা গ্রহণ করে পুলিশ পক্ষপাতিতের পরিচয় দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে, গত পৌরসভা নির্বাচনের পর থেকে জাহেদুল আলম, দিদারুল আলম ও মেয়র রফিকের নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্র“ চৌধুরী অপু এবং পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মো. শানে আলম, শ্রমিক নেতা জানু সিকদার, মতিন মিস্ত্রী, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, নুরু মোহাম্মদ ও জামালসহ অসংখ্য আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে আহত করেছে। হামলায় আহত অনেকে পংগুত্ব বরণ করেছে বলে অভিযোগ করেজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন খান। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলা এবং মামলা গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামী রোববার বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বরাবরে স্মারক লিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা নুরুন্নবী চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. রইছ উদ্দিন, সহ-সভাপতি কল্যান মিত্র বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট আশুতোষ চাকমা, মো. শানে আলম, প্রচার সম্পাদক ক্যাজরী মারমা, সহ-প্রচার সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল চাকমা, জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান হেলাল, সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার দে, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুই গ্র“পের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক বার হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে।

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি


আরোও সংবাদ