পুলিশ-ডাকাত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত ৫, অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ:| বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

নগরীর আলকরণ এলাকায় বোমা মেরে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতদের সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, এই বন্দুকযুদ্ধে তিন পুলিশসহ দুই ডাকাত আহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে ফিরিঙ্গিবাজার ব্রিজঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেলে কোতোয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন সেলিম এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্ধুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, একটি বন্দুক, তিন রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চার ভরি সাত আনা ওজনের বিভিন্ন প্রকার সোনার অলঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ-ডাকাত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত ৫, অস্ত্র উদ্ধার
ওসি মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে আহত দুই ডাকাত হলেন, মো. হাসান জমাদার (৩২) ও মানিক ওরফে কানা মানিক (২৮)। তাদের ১৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে ঢাকার খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ১৬ ডিসেম্বর তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার নারীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- ফয়সাল হোসেন সাগর (৩০), হালিম হাওলাদার নয়ন (৩০), মো. রিয়াজ (২৩), রুমা বেগম (২৮), জুলেখা বেগম (৩১), হাসিনা বেগম (৩৪) ও খোরশেদা আক্তার (২১)।’

এ নিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে সাগর ও নয়ন সোনার দোকান ডাকাতি চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়েছিল এবং তাদের অস্ত্র হেফাজতে রেখেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর হাসান ও কানা মানিককে নিয়ে পুলিশ বুধবার ভোরে ফিরিঙ্গিবাজার ব্রিজঘাট এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার যায়। সেখানে হাসান ও মানিকের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে দু’পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন হাসান-মানিক দুজনই। পুলিশেরও এক এসআই এবং দুই কনস্টেবল আহত হন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে নগরীর আলকরণ এলকায় হাজী দানু মিয়া সওদাগরের মালিকানাধীন অপরূপা জুয়েলার্স এবং জুয়েলারি সমিতির সহ-সভাপতি রতন ধরের মালিকানাধীন গিনি গোল্ড জুয়েলার্সে বোমা ফাটিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। ওই বোমায় আহত হয়ে আবু সৈয়দ (৪৫) নামে এক পথচারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেক হাসপাতালে মারা যান। চিকিৎসাধীন আছেন আরো ৯ জন।

এই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় ১১ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছেন গিনি গোল্ড জুয়েলার্সের মালিক রূপন কান্তি ধর।