পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার শোকজ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৪ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আইনের ভুল ব্যাখা দেয়ায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) স্বপন কুমার সরকারকে কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত।  এ নিয়ে একই মামলায় একই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই আদালত থেকে দ্বিতীয়বার শোকজ নোটিশ ইস্যু হয়েছে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন অর রশিদ ‌এস আই স্বপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা তিনদিনের মধ্যে জানানোর আদেশ দেন।

গত ৯ অক্টোবর রাতে নগরীর জামালখান থেকে মোটর সাইকেল চুরির একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এস আই স্বপন কুমার সরকার আদালতের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

ওইদিন নগরীর জামালখান এলাকায় সিকদার হোটেলের সামনে থেকে জনৈক ব্যবসায়ী হায়দার আলীর একটি মোটর সাইকেল চুরি হয়।

হায়দার আলী জানান, সিকদার হোটেলে চায়ের মধ্যে নেশাদ্রব্য খাইয়ে তাকে প্রায় অচেতন করে মোটর সাইকেলটি নিয়ে যায় তার বন্ধু তৌকির আহমেদ জুয়েল।  ওই রাতেই তিনি বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলার ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ তৌকিরকে জামালখান থেকে পরদিন আটক করে এবং হায়দারেরসহ দুটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে।

আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, আটকের তিনদিন পর আসামি তৌকিরকে পুলিশ আদালতে হাজির করে।  আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজিরের আইন লঙ্ঘনের কারণে প্রথম দফা তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেন আদালত।  সোমবার (২৪ অক্টোবর) শোকজ নোটিশের জবাবে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।  এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তিনদিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।

তিনি বলেন, রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আমি আদালতকে অবহিত করি যে, আটকের পর যে তিনদিন আসামি পুলিশ হেফাজতে ছিল তখন আদালতের অনুমতি ছাড়া এবং স্থানীয় থানাকে না জানিয়ে আসামিকে নিয়ে কুতুবদিয়ায় অভিযান চালানো হয় এবং একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।  এসময় আদালত জানতে চান, কোন আইনে তিনি আসামিকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছেন ?

‘জবাবে এস আই স্বপন সরকার বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তিনি আসামিকে নিয়ে অভিযান চালাতে পারেন।  বিষয়টিকে আইনের ভুল ব্যাখা হিসেবে উল্লেখ করে আদালত তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তিনদিনের মধ্যে তা জানানোর নির্দেশ দেন। ’ বলেন ইফতেখার সাইমুল।

তিনি বলেন, আইনের বিষয়ে অজ্ঞতা থাকতে পারে।  কিন্তু ডকে দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে আইনের ভুল ব্যাখা দেয়া গুরুতর অপরাধ।  এজন্য আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করেছেন।