পুলিশের উপর পরিবারের সদস্যদের চরম ক্ষোভ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৬:২৯ অপরাহ্ণ

পুলিশের উপর পরিবারের সদস্যদের চরম ক্ষোভশিশু নুসরাতের কান্না এখনো থামেনি। কেউ কোলে নিলেই কান্না করে। সারা শরীরে ব্যথা। রাজনীতির পদতলে আমরা সাধারন মানুষ কেন পিষ্ঠ হব। আমরা সাধারন জনগন। রাজনীতি কি আমরা তা জানি না। পুলিশ-বিএনপি বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংঘর্ষ হোক না কেন,বাসায় কেন গুলি করা হবে। বাসায়তো আর বিএনপি শিবির ছিল না। পুলিশ সদস্যরা কি বিনা প্রশিক্ষনে চাকরি করছে। কোথায় গুলি করতে হবে কোথায় করতে হবে না, তারা কি জানে না। বাসার তিনতলায় থাকা প্রতিবন্ধী শিশুর গায়ে কিভাবে স্পিন্টার বিধল। এ কথা গুলো মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ক্ষোভের সহিত বলছিলেন ২৮ অক্টোবর পুলিশের স্পিন্টারে আহত দেড় বছরের প্রতিবন্ধী শিশু নুসরাত এর দাদাী মনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে। ঘটনায় নুসরাতের সাথে আহত হয় তার মা রোখসানা,পিংকি ও শারমীন।
তিনি আরো বলেন,বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা বাসার বাইরে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে দেখি গোলাগুলির শব্দ। মূহুর্তের মধ্যে চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল। নুসরাত ছিল তার মায়ের কোলে। হঠাৎ করে কান্না উঠে নুসরাত ও তার মা রোখসানা। নুসরাতের দিকে এগিয়ে এসে দেখি তার শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত পড়ছে। তার মা কান্না করতে থাকে। নুসরাত প্রতিবন্ধী। হাটতে চলতে পারেনা। তাকে প্রথমে উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থা বেগতিক হওয়ায় নুসরাতকে রাতে চমেক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তার শরীরে ৩০টি স্পিন্টার বৃদ্ধ হয় বলে জানান। গতকাল দুপুরে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নুসরতাসহ ঘরে ফিরেন তারা।
নুসরাতের মা রোখসানা জানান,ডাক্তার বলছে কয়েকদিন দেখতে। যদি সবগুলো স্পিন্টার উঠে না যায় তবে সার্জারী বিভাগে অপারেশন করতে হবে। তিনি আরো বলেন পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে আমাদের বাসার চারিদিকে থাকা পর্দায় শত শত ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। সবদিকে যেন স্পিন্টারের মহোৎসব।
আহত নুসরাতকে দেখতে যান মেখল ইউপি চেয়ারম্যান মো.গিয়াস উদ্দিন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রনেতা রেজাউল করিম বাবু,কাজী এরশাদ,আজম উদ্দিন,রিপন জিয়া,রায়হান,রহিম কেরালা প্রমুখ। তারা নুসরাতের চিকিসার খোজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের শান্তনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের টানা ৬০ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে হাটহাজারী পৌরসদরে পুলিশ-বিএনপি-আ.লীগ দু’দফা সংঘর্ষে বাসষ্টেশনস্থ নূর ভবনের তৃতীয় তলায় মায়ের কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু নুসরাত ও ২ পুলিশ সহ বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। । এতে একটি ককটেল অবিষ্ফোরিত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার হয়।