পুরুষ হাতিটির নাম ‘বঙ্গবাহাদুর’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১২ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

প্রায় দেড় মাস দেশের পাঁচ জেলায় ঘুরে বেড়ানো ভারতীয় বুনো হাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবাহাদুর’। শুক্রবার বন অধিদপ্তরের উদ্ধার দলের নেতৃত্বে থাকা ড. তপন কুমার দে বলেন, “বানের জলে ভেসে আসা বুনো হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের কয়েকটি জেলা চষে বেড়িয়েছে। বেশ শক্তি থাকলেও কারো ক্ষতিও করেনি। দেশে এসে এভাবে ঘুরে বেড়ানো অতিথি পুরুষ হাতিটির নাম তাই আমরা রেখেছি বঙ্গবাহাদুর।”
হাতি22

সেই বুনো হাতিটির জীবন নিয়ে আর শংকা নেই
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এই নাম দেওয়া হয়েছে বলে জানান অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক।

“হাতিটি পুরুষ হওয়ায় নামের অংশে বাহাদুর রাখা হয়েছে, আর বাংলাদেশে আসায় বঙ্গ নামটি দিয়েছি। এ নামটি দেওয়ার ফলে সহজেই শনাক্ত করা যাবে। হাতির প্রতি আমাদের মমত্ব বোধের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালো আচরণের বিষয়টিও উঠে আসছে।”

তপন দে জানান, ইতোমধ্যে হাতিটিকে সফলভাবে টাঙ্কুলাইজ করে উদ্ধারের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি ভারতীয় দলকে জানানো হয়েছে।

প্রায় সাড়ে চার টনের বেশি ওজনের এই হাতিটি বেশ বয়স্ক বলে ধারণা উদ্ধার দলের।

এ বিষয়ে তপন কুমার দে বলেন, তবে দাঁত দেখে পরীক্ষা করেই বুনো হাতিটির বয়স শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

শুক্রবার চার পায়ের শেকলের মধ্যে তিনটি ছিঁড়ে ফেলেছে বঙ্গবাহাদুর। তবে পেছনের এক পায়ে এখনো শেকল লাগানো রয়েছে।

পশু চিকিৎসক সৈয়দ হোসেন শুক্রবার বিকাল ৫টায় বলেন, “অপেক্ষাকৃত দুর্বল রশি হওয়ায় তিনটি ছিঁড়ে গেছে। একটি পায়ে বাঁধা রয়েছে। আশা করি, তা ছিঁড়তে পারবে না। তার পায়ে নতুন শেকল পরানোর চেষ্টার পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবেলায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

প্রশিক্ষিত মাহুত ও চেতনানাশক ওষুক থাকায় যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর প্রস্তুতি তাদের রয়েছে বলেও জানান এই বন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “হাতিটি এখন খাওয়া-দাওয়া করছে; চিকিৎসাও চলছে। আমরা সব সময় পাশে আছি। এলাকাবাসীর সহায়তাও পাচ্ছি।”

এদিকে দেড় মাস পর জামালপুরের সরিষাবাড়িতে ধরা পড়া ভারতীয় বুনো হাতি দেখতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের মানুষ।

এ পরিস্থিতিতে হাতিটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার কারণ দেখিয়ে ওই এলাকায় বহিরাগতদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান শুক্রবার বিকালে কামারাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে হাতিটি দেখতে যান।

এ সময় তিনি সরিষাবাড়ি রেল স্টেশন থেকে কয়রা পর্যন্ত সড়কে বহিরাগতদের চলাচলে নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।

সন্ধ্যায় সরিষাবাড়ি ডাকবাংলোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “লোকজনের চাপ থাকায় হাতি স্থানান্তর প্রক্রিয়া ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এজন্য কয়রা এলাকায় যাতায়াতের রাস্তায় বহিরাগত লোকজন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”

সরিষাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, পরিস্থিতি সামলাতে ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

হাতির নিরাপত্তা ও খাবার সরবরাহে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

তপন কুমার দে জানান, প্রশিক্ষণ পেয়ে হাতিটি স্বাভাবিক আচরণ করলেই তাকে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।