পুরাতন সাইকেলের কদর বাড়ছে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৬:২৯ অপরাহ্ণ

নতুন সাইকেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরনো সাইকেলেরও কদর বাড়ছে। নতুন সাইকেলের তুলনায় পুরনো সাইকেল অনেকটাই কম দামে পাওয়া যায়। দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের নতুন সাইকেল যাদের কেনার সামর্থ নেই তারা পুরনো সাইকেল কিনছেন।

রাজধানীর বড় সাইকেলের বাজার বংশাল। যেখানে নতুন সাইকেলের পাশাপাশি পুরাতন ব্যবহৃত সাইকেলও বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন সাইকেল ভেদে নতুন সাইকেলের তুলনায় ব্যবহৃত পুরাতন সাইকেল দুই হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে পাওয়া যায়।

এসব সাইকেল একদমই পুরাতন নয়। অনেকেই আছেন নতুন সাইকেল অল্প কিছুদিন  চালিয়ে পুরাতন সাইকেলের দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিক্রেতারা এসব সাইকেলের টুকটাক ত্রুটি সেরে আবার বিক্রি করছেন।

বংশালের সাইকেলের বাজারে কথা হয় কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি জানান, নতুন সাইকেল কেনার মত সামর্থ্য তার নেই। তাই অল্প টাকায় পুরাতন সাইকেল কিনবেন বলে ঠিক করেছেন। ইব্রাহিমকে দেখা গেল দোকানে দোকানে ঘুরে পুরাতন ব্যবহৃত সাইকেল খুঁজতে।

একই কারণে বংশালে এসেছিলেন ওয়াহিদ। ওয়াহিদ থাকেন উত্তরাতে। তার অফিস রামপুরায়। উত্তরা থেকে রামপুরা আসতে ওয়াহিদের প্রতিদিন অনেক টাকা বাস ভাড়া গুনতে হয়।

এ বিষয়ে ওয়াহিদ বলেন, ‘হিসেব করে দেখলাম বছরে বাস ভাড়ার জন্য যে টাকা খরচ হয় তা দিয়ে অনায়াসেই একটা সাইকেল কেনা যায়। তবে সাইকেল কেনার জন্য খুব বেশি একটা বাজেট নেই। তাই ঠিক করেছি পুরাতন সাইকেল কিনবো।’

cycle-02তবে সবাই যে সাইকেলের দোকান থেকে পুরাতন সাইকেল কেনেন এমন নয়। কেউ কেউ আছেন পুরাতন সাইকেল বিক্রেতাদের কাছ থেকে সাইকেলের বডি কিনে পছন্দমাফিক যন্ত্রাংশ সংযোজন করিয়ে নেন। এমন দুই জনের দেখা মিললো বংশালে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় ও আসিফ জানান, এর আগেও তারা দুইটি সাইকেল বানিয়ে নিয়েছেন। দেখে শুনে অ্যালুমিনিয়ামের বডি কিনেছিলেন। তারপর সেই বডিতে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন করেছেন।

এ বিষয়ে তন্ময় বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে সাইকেল চালাই। ব্যান্ডের নতুন সাইকেলের অনেক দাম। তাই আমি ব্র্যান্ডের সাইকেলের পুরাতন বডি কিনি। অ্যালুমিনিয়াম কিংবা কার্বন ফাইবারে বডি পুরাতন হলেও শক্তপোক্ত। এরপর পছন্দসই সাইকেলের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ কিনে সাইকেল মেকারকে দিয়ে সাইকেল বানিয়ে নেই। এতে খরচও কম পরে। আবার নিজের মনের মত সাইকেলও পাওয়া যায়।’

নাজমুল সাইকেল স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী রিপন বলেন, ‘নতুন সাইকেলের যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি পুরাতন সাইকেলের চাহিদা আছে। হরতাল-অবরোধের কারণে অনেকেই বাসে চড়তে ভয় পাচ্ছেন। তাই সাইকেলের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু নতুন সাইকেল কেনার মত সামর্থ্য অনেকেরই নেই। নতুন সাইকেলের তুলনায় ব্যবহৃত সাইকেলের দাম কম। তাই অনেকেই পুরাতন সাইকেল কিনছেন।’