পুতুল নাচের নামে জীবন্ত নারীর অশ্লীল নৃত্য

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:২৩ অপরাহ্ণ

জুয়া ও পুতুল নাচের নামে জীবন্ত নারীর অশ্লীল নৃত্যখাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাস উপলক্ষ্যে বিজয় মেলা চলছে। কিন্তু কতিপয় অর্থ লোভি মানুষ সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চালাচ্ছে জুয়া ও পুতুল নাচের নামে জীবন্ত পুতুলের অশ্লীল নৃত্য। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি মানিকছড়ি ও রামগড়ে শুরু হয়েছে বিজয় মেলা।

অভিযোগ উঠেছে এমেলায় প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিরাতে চলছে রমরমা জুয়ার আসর আর যুবতী মেয়েদের (জীবন্ত পুতুল)’র অশালীন নৃত্য। এতে করে সামাজিক অবক্ষয়সহ দেখা দিচ্ছে নানা অনিয়মের।

মানিকছড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সফিউল আলম চৌধূরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে মেলার আনা হলেও সব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। আমরাতো নামে মাত্র। ২০দিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তবে মেলায় প্রথম দিন জুয়া ও নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বর্তমান তা বন্ধ রয়েছে বলে জানান। মেলায় জুয়া,হাউজি আর নৃত্য বন্ধ থাকায় মন্দা সময় যাচ্ছে জানিয়ে তিনি মেলা প্রাঙ্গনে যাওয়ার দাওয়াত করেন এই প্রতিনিধিকে। এ সময় তিনি নিজেকে জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বলেও পরিচয় দেন।

মানিকছড়ি বিজয় মেলায় জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য চলার বিষয়ে অস্বীকার করে মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান-মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ২০ দিন ব্যাপী বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে কোন ধরনের বেআইনী কোন কিছু এ মেলায় চলছে না এবং করতোও দেওয়া হবে না।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে কোন ধরনের জুয়া,হাউজী ও নৃত্যের কথা উল্লেখ না থাকলেও অবৈধ ভাবে রামগড়ও বিজয়ের মাসে শহীদদের সম্মানের স্থলে অবমাননা করে বেপরোয়া ভাবে চলছে মাস ব্যাপী এ বিজয় মেলা। এ মেলায়ও কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে আশালীন ভাবে যুবতী মেয়দের (জীবন্ত পুতুলের) নৃত্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামগড়ের এক যুবলীগ নেতা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে মাস ব্যাপী শুরু হওয়া এ মেলা নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর ১ জানুয়ারী থেকে আবার শুরু হয়। মেয়াদ শেষ ৮ জানুয়ারী। প্রশাসনের অনুমোদনের অপব্যবহার করে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেলা পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক-বিশ্ব ত্রিপুরা প্রভাব খাটিয়ে বেআইনী ভাবে মেলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতি মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ মেলার আবারো বাড়াতে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন সকল অনিয়ম-অবৈধ জুয়া ও নারীদের আশালীন নৃত্য চালানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে একটি পক্ষ। ইতি মধ্যে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নেতাকর্মীরা বর্তমানে অবস্থানে নিয়েছে। বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

রামগড়ে বিজয় মেলার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক রামগড় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: কামাল হোসেন বলেন, অশালীন কোন কিছু করা হচ্ছে না। তবে অনেকে মেলার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বেগতিক কিছু হলে আমরাই মেলা বন্ধ করে দেব। কারণ সামনে নির্বাচন এ মেলার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হোক এটা কারো কাম্য নয়।

তবে এ মেলার সকল দায়িত্বে রয়েছে বর্তমান এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার জামাতা রামগড় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্ব ত্রিপুরা বলেন, মেলা নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনা নেই। আমি মেলার পক্ষেও না। তাই মেলার কোন বিষয় নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। কেউ কেউ আমার নাম ভাঙ্গীয়ে সম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, স্ব-স্ব উপজেলায় মেলার কার্যক্রম নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাই দেখবেন। রামগড় মেলার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও তা নাকোজ করা হয়েছে। এসময় তিনি কোন ধরনের অনিয়ম বা বেআইনী কোন কিছু করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।