পুকুরিয়ায় ও সাধনপুরে একের পর এক হাতির তাণ্ডব

mirza imtiaz প্রকাশ:| শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালীর পুকুরিয়ায় ও সাধনপুরে একের পর এক হাতির তাণ্ডব। কের পর এক হাতির তাণ্ডবে মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে অনেকে এলাকা থেকে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে বলে জনপ্রতিনিধিগণ উপজেলা প্রশাসনকে অভিহিত করেছে।

বিগত দিনে হাতির তাণ্ডব থেকে এলাকার মানুষকে রক্ষায় বনবিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বিগত ১৭ জুলাই রাত থেকে গতকাল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অর্ধ শতাধিকবার হানা দিয়ে বাড়িঘর তছনছ করলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এমনকি এ হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচতে সাধনপুরের সহস্রাধিক লোকজন মানববন্ধন করে প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তবুও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত পাহাড় থেকে হাতির পাল নেমে এসে বাড়িঘর ও ফসলী জমি তছনছ করে চলেছে। কিন্তু এগিয়ে আসছে না বনবিভাগ– এমন অভিযোগ সাধারণ জনগণের। হাতির হামলা ও তাণ্ডবের শিকার পরিবারগুলো দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অপরদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে হাতির আতংক। চলতি মাসে বেশ কয়েকবার হাতির হামলার শিকার হয়েছে সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার। এ দাবি জনপ্রতিনিধিদের। তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট কোন দিক নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সাধনপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টেলাপাড়া এলাকায় হোসনে আরা বেগম ও শীরু তাজ বেগমের বাড়িতে হানা দিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে দেয় হাতিরপাল। পরে বদর দরগা নামক স্থানে গিয়ে আরো কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে সাধনপুর আওয়ামী লীগ নেতা সাদ রশিদ বলেন, বিগত দিনে সাধনপুরে বিভিন্ন গ্রামে ৭০/৮০ বাড়ি হাতির হামলার শিকার হয়েছে। আমরা সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্থরা আবেদন করেছে। এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান। পুকুরিয়া এলাকায় হাতির তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে চেয়ারম্যান আহসাব উদ্দিন বলেন, বারবার হাতির হামলা ও তাণ্ডবের শিকার হচ্ছে পুকুরিয়ার নতুনপাড়া, চানঁপুর, সেন্টারপাড়া, চন্দ্রপুর, আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় বিগত দিনে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিষদের পক্ষ থেকে সামান্য ভিজিএফ চাল ছাড়া তেমন সহযোগিতা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে তাদের সহযোগিতার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি । সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যাপারে কথা হয়েছে। আশা রাখি শীঘ্রই তা পেয়ে যাব।’ আর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিন্তু এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি তাদেরও তালিকাভুক্ত হতে তিনি আহ্বান জানান ।