পি.পি স্কুল’র অধ্যক্ষকে মারধর করার প্রতিবাদে ক্ষোভ

প্রকাশ:| শনিবার, ২ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:১১ অপরাহ্ণ

পি.পি স্কুল’র অধ্যক্ষকে মারধর করার প্রতিবাদে ক্ষোভহাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নস্থ জোবরা পি.পি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সফিউল আলমকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। শত শত শিক্ষার্থী স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল সহকারে মদনফকির মাজার, রেল ক্রসিং হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১ নং গেইট এলাকায় মানববন্ধনে মিলিত হয়। প্রাক্তন ছাত্র জুয়েলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জোবরা পি.পি স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান, ফরিদুল আলম, ইবনে ফয়সাল মুন্না, ইফতিয়াজুল আলম কাজল, মহিউদ্দিন, মহসীন, জাহেদ, সানি বডুয়া, মোরশেদ, নিয়মিত ছাত্র তৌহিদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘জোবরা পি.পি স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের স্বার্থে বায়নামূলে খরিদকৃত জায়গায় মাটি ভরাট করছেন। এ নিয়ে সিরাজুল আলম গং অধ্যক্ষ সফিউল আলম ও শিক্ষক লোকমানকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করেছে যা অত্যন্ত অমানবিক, ঘৃণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান সম্মাানের উপর হামলার সামিল। আমরা প্রশাসনের নিকট হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জোবরা পি.পি স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২০১০ সালের দিকে সরকার থেকে ১তলা বিশিষ্ট একটি ভবন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনের প্রবেশপথের জায়গার মালিকানা নিয়ে জটিলতা থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫বছর ওই ভবনটি ব্যবহার করতে পারেনি। ৬মাস পূর্বে ভবনের সামনের ২শতক জায়গা বায়নামূলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ক্রয় করেন। জায়গাটিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল সোয়া দশটার দিকে সিরাজুল হক গং অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শফিউল আলমকে জোবরা পি.পি স্কুল এন্ড কলেজ এলাকায় মারধর করেন। এসময় অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে এসে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক লোকমানও মারধরের শিকার হন। ঘটনার পরপরই ওই শিক্ষা প্রতিষ্টানের সকল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের চবি ২নং গেইট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ উত্তেজিত শিক্ষার্থীর শান্ত করে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ মুহাম্মদ সফিউল আলম ও শিক্ষক লোকমান হাটহাজারী মডেল থানায় পৃথক দুটি ডায়েরি করেন।

অবশ্য অধ্যক্ষকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করে এটিকে ভুল বুঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের ছেলে চট্টগ্রাম জর্জ কোর্টের শিক্ষানবীশ আইনজীবি মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তাঁর পিতা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির জন্য যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলেও যোগ করেন তিনি।

শিক্ষক লাঞ্ছিত, মারধর ও মানববন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল পিপিএম(বার) জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।’