পিস্তল উঁচিয়ে নিজেই সড়কের গাছ সরালেন বস্ত্র মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

প্রকাশ:| রবিবার, ২২ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৫০ অপরাহ্ণ

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীমন্ত্রীর এক হাতে পিস্তল, অন্য হাতে গাছের ডাল। সঙ্গে র‌্যাব ও পুলিশের কয়েক ডজন সদস্য এবং স্থানীয় লোক। অবরোধকারীদের সড়কে ফেলে রাখা গাছ সরানোর কাজ করছেন তাঁরা।

আজ রোববার সকালের এ দৃশ্য নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ ও লালপুর উপজেলার কদিমচিলান এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের। ঢাকায় ফেরার পথে এ রকম দুই দফা হয়রানির কবলে পড়েন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আজ সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র পরিদর্শন শেষে ওই সড়ক হয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। পুলিশের পাহারায় সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁর গাড়ি বড়াইগ্রামের ধানাইদহ এলাকায় এসে সড়ক অবরোধের মুখে পড়ে। অবরোধকারীরা আগেই সেখানে গাছ কেটে রেখে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে অন্য রাস্তা হয়ে ঘুরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাতে তিনি সায় দেননি। বাঁ হাতে পিস্তল উঁচিয়ে ধরে গাড়ি থেকে তিনি নেমে আসেন। এরপর নিজেই ডালপালা সরাতে শুরু করেন।

সূত্র আরও জানায়, খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ গাড়ি পুলিশ ও দুই গাড়ি র‌্যাবের সদস্য এসে সেখানে হাজির হন। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দা, কুড়াল ও করাত দিয়ে একযোগে গাছ সরানোর কাজ শুরু হয়। আধা ঘণ্টা পর মন্ত্রীর গাড়ি পার হয়।

এদিকে চার কিলোমিটার পথ যেতেই মন্ত্রীর গাড়ি আবার লালপুর উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় অবরোধকারীদের ফেলে রাখা দুটি গাছের কারণে আটকা পড়ে। আগের মতোই তিনি গাড়ি থেকে নেমে গাছ সরানোর কাজে যোগ দেন। প্রায় ২০ মিনিট পর সেখান থেকে পার হন। সেখান থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারায় তাঁকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল সড়ক হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের কাছে হয়রানি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করলে অন্য রাস্তা হয়ে ঢাকায় ফিরতে পারতাম। কিন্তু তাতে দুর্বৃত্তরা উত্সাহিত হতো। এ রকম পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাহলে আমার মতো কেউ দুর্ভোগে পড়বে না।’

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘অবরোধকারীরা সড়কে আচমকা গাছ ফেলে সটকে পড়েছিল। আমরা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এ পরিস্থিতির জন্য আমরা বিব্রত বোধ করছি।’


আরোও সংবাদ