পিতার মতোই জনগনের উপর কোন আস্থা নেই শেখ হাসিনার: তারেক রহমান

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:০৫ অপরাহ্ণ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পিতার মতোই জনগনের উপর কোন আস্থা নেই শেখ হাসিনার। তাই সংসদ কিংবা সরকার গড়তে জণগনের ভোট কিংবা সমর্থন প্রয়োজন হয় না। তবে জণগনের পক্ষে না দাঁড়ালে ইতিহাসে এর শাস্তি বড়ই নির্মম। এটা ঠিকই টের পেয়েছিলেন শেখ মুজিব। জোর খাটিয়ে কিংবা রাজাকর আখ্যা দেয়ার ভয় দেখিয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে যতই মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হোক, প্রকৃত সত্য হচ্ছে-স্বাধিন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসটি শেখ মুজিব আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের সৌভাগ্য অজর্ন করতে পারেননি। যদিও এই দিনটির মর্যাদা শেখ মুজিবের কাছে খুব বেশি আনন্দদায়কও হওয়ার কথা নয়।
তারেক রহমান
লন্ডনের দ্যা অ্যাট্রিয়ামে আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বুধবার লন্ডনে দ্যা অ্যাট্রিয়াম অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

৭ নভেম্বর প্রসঙ্গ টেনে অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, কি হয়েছিল ৭ নভেম্বর? কি ঘটেছিল সেদিন? এটি আমাদের প্রত্যেকের জানা দরকার। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে জানা দরকার এজন্যই যে, তাদেরকে এখন মিথ্যা, বিকৃত ও খন্ডিত ইতিহাস শেখানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর হঠাৎ করেই আসেনি। এর পেছনে ছিল একটি প্রেক্ষাপট। ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার ইতিহাস। ছিলো দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীন বাংলাদেশের সম্নানের সঙ্গে বেঁচে থাকার দুর্বার আকাঙ্খা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কী তা শেখ মুজিবের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। যুদ্ধশেষে দেশে ফিরে তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। এই ক্ষমতা দখলের পর কার্যত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন শেখ মুজিব। তিনি জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন।’

দীর্ঘ দুই ঘণ্টার লিখিত বক্তব্যে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব বলেন- ‘কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?’ বিরোধী দলের একজন রাজনৈতিক নেতাকে বিনা বিচারে হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে দম্ভভরে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করেন শেখ মুজিব।’ ‘পিতার মত অন্যায়ভাবে এখন এই সংসদ বিনা ভোটের কথিত এমপি দিয়ে দখল করে রেখেছেন ‘রং হেডেড’ শেখ হাসিনা।’

‘শেখ মুজিবের নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টির ডাকে ওইদিন আধা-বেলা হরতাল পালিত হচ্ছিল। ১৯৭৪ সালের বিজয় দিবসেও হরতাল আহবান করে সর্বহারা পার্টি। এর আগে একই বছর ১৩ অক্টোবর শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ডাক দেয় শেখ হাসিনার আজকের বিশ্বস্ত ইনু গংদের জাসদ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিজয় দিবসের মর্যাদা অবশ্য শেখ মুজিবের কাছে খুব বেশি আনন্দদায়ক হওয়ার কথাও নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিব দেখেননি। মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা রাখতে না পারার লজ্জা ছিল তার। আর এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে শেখ মুজিব কখনো সহজ হতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘সেনবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সামরিক আদালতে বিদ্যমান আইনে তাহেরের বিচার হয়েছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে অব্যাহত অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে এজন্যে দায়ী করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে ইনুরা। অথচ শেখ মুজিবের হত্যকাণ্ডসহ ১৯৭৫ সালের সব ঘটনার জন্যে দায়ী ইনু-তাহেররা।’ তিনি বলেন, ‘বলা হয় আমার পিতা জিয়াকে রক্ষা করেছেন তাহের-ইনুরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাহের-ইনুরা ওই সময় জিয়াকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন, নাকি জিয়ার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিলেন?’ তারেক বলেন, ‘তাহের-ইনুর পরিকল্পনা ছিল জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা যা ইনু নিজে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। তবে সাধারণ সৈনিক ও জনগণের মধ্যে জিয়ার জনপ্রিয়তায় তা সে সময়ে সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মত একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার কথা যখন একটি উগ্র রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা নিজেই প্রকাশ করেন, তখন এটিকে অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে। আর অপরাধ কখনো তামাদি হয় না।’ এই অপরাধের কারণে ইনুকেও বিচারের কাঠগড়ায় তোলা উচিত।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ ও জণগনের স্বার্থে কখনো আপষ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়ির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তাঁর কাছে (জিয়াউর রহমানের কাছে) পদ-পদবী কিংবা নেতৃত্বের কর্তৃত্ব বড় ছিল না, ছিল দেশ প্রেম। আপনারা জানেন স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে ১৯৭১’ এর ২৫ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তখন দেশ নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়ে। ঠিক তখনি দিশেহারা জাতির কথা মাথায় রেখে ২৬ মার্চ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। আর এ ঘোষণা দিয়েই তিনি বসে থাকেননি। লাখো মুক্তিযোদ্ধাকে সংগঠিত করে চালিয়ে যান মুক্তিযুদ্ধ।

তাহের-ইনু চক্র সম্পর্কে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্বৃতি দেন তারেক রহমান। রিপোর্টে বলা হয় ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর হাসানুল হক ইনু শাহবাগস্থ বেতার ভবনে গিয়ে অভ্যুত্থানের নায়কদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রতি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি একা যাননি, গিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের সঙ্গে। তাহের তখন জাসদের গণবাহিনীর অধিনায়ক, আর ইনু ছিলেন গণবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের আরেক অবৈধ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দল ইউপিপি শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট মেননের দল ইউপিপি এক বিবৃতিতে বলেন,..‘মুজিবের অপসারণে জনগণ উল্লসিত। তার মৃত্যু কারও মনে সামান্যতম সমবেদনা বা দুঃখ জাগায়নি, জাগাতে পারে না’।

তারেক রহমান বলেন, এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয় শেখ মুজিব হত্যার দায় তৎকালীন জঙ্গি নেতা ইনু কিংবা মেননরা এড়াতে পারেন না।

রক্ষীবাহিনীকে খুনি ও বর্বরবাহিনী উল্লেখ করে তারেক রহমান সাংবাদিক ও গবেষক আহমেদ মুসা লিখিত বই ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ’ বই থেকে একটি ঘটনার উদাহরণ দেন তারেক রহমান। বইটিতে ঘাতক রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের শিকার বাজিতপুরের ইকুরটিয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আব্দুল আলীর অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরেন। আব্দুল আলী বলেন, ‘….ওইখানে আমাকে (আব্দুল আলী) ও আমার ছেলে রশিদকে হাত-পা বেঁধে তারা খুব মারলো। রশিদকে আমার চোখের সামনে গুলি করলো। ঢলে পড়লো বাপ আমার। একটা কসাই আমার হাতে একটা কুঠার দিয়ে বললো, তোর নিজের হাতে ছেলের গলা কেটে দে, ফুটবল খেলবো তার মাথা দিয়ে। আমার মুখে রা‘ নেই। না দিলে বলল তারা, তোরও রেহাই নেই। কিন্তু আমি কি তা পারি? আমি যে বাপ। একটানা দেড় ঘণ্টা মারার পর আমার বুকে ও পিঠে বন্দুক ধরলো। শেষে নিজের হাতে কেটে দিলাম ছেলের মাথা। আল্লাহ কি সহ্য করবে?’

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এবং ৭ নভেম্বরের পুর্বাপর ঘটনার ব্যাপারে কিছু সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এইসব ঘটনাগুলো তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে, যাতে ইতিহাস বিকৃত করে কেউ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে।” এ বিষয়ে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

১. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার পর বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। গঠন করেন মন্ত্রিসভা। শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার প্রায় সকলেই মোশতাকের মন্ত্রিসভার সভায় শপথ নেন। খন্দকার মোশতাক ছিলেন শেখ মুজিবের একমাত্র আদর্শ বাকশালের ৪ নং সদস্য।

২. খন্দকার মোশতাক সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। ওই সময় সেনাপ্রধান ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবং সেসময়কার জেনারেল শফিউল্লাহ।

৩. জিয়াউর রহমান সেই সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ।

৪. শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পরে মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে বিজয়ীর বেশে গিয়েছিল তাহের-ইনু বাহিনী এবং তৎকালীন মুজিব বিরোধী নেতারা।

৫. শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের দশ দিন পর, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট পর্যন্ত জেনারেল শফিউল্লাহ ছিলেন সেনাপ্রধান।

৬. রাষ্ট্রদূত হিসাবে সরকারি চাকরি কনফার্ম করার পর সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েন জেনারেল শফিউল্লাহ। এরপর যথা নিয়মে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ থেকে প্রমোশন পেয়ে ২৫ আগস্ট সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।

৭. তবে জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হলেও সে সময় তিনবাহিনী প্রধানের ওপর নজীরবিহীনভাবে প্রথমবারের মতো চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নামে একটি পদ সৃষ্টি করেন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক। সেই পদে তৎকালীন বিডিআর চিফ মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। একইসঙ্গে জেনারেল ওসমানীকে নিয়োগ করা হয় রাষ্ট্রস্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের ডিফেন্স এডভাইজর হিসেবে।

৮. সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান রক্ষীবাহিনী‘র প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।

৯. ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গৃহবন্দী করেন।

১০. জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার পর প্রশাসনের ওপর নিজের নেতৃত্ব ও কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট মুশতাকের সঙ্গে নানা বিষয়ে দেন দরবার শুরু করেন। গৃহবন্দী জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রও নেয়া হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ মেজর জেনারেল হিসেবে নিজেই নিজের প্রমোশন নেন এবং নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন।

১১. ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলের মধ্যে সংঘটিত হয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড। মুশতাক এবং আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মোশাররফের ভাই ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সম্মতিতে এবং জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সঙ্গে জড়িতরা নিরাপদে দেশত্যাগ করেন।

১২. ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন খোন্দকার মোশতাক। এরপর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সম্মতিতে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন ৬ নভেম্বর।

১৩. ১৫ আগস্ট থেকে মোশতাক-শফিউল্লার জারি করা সামরিক আইন বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি আবু সায়েম একাধারে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকেরও দায়িত্ব পালন করেন।

১৪. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। শেখ মুজিব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এর দুই দিন পর ১২ জানুয়ারি আবু সায়েমকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৫. ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ।

১৬. ৭ নভেম্বর সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। শহীদ জিয়া বন্দীদশা থেকে মুক্ত হন। এরপর তিনি পুনরায় সেনাপ্রধান হিসাবে পুনর্বহাল হন।

১৭. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম।

১৮. এ সময়কালে জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাপ্রধান এবং উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।
১৯. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি আবু সায়েম। ৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান। দেশে সামরিক আইন বহাল থাকায় একইসঙ্গে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

১৭. ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেনারেল এম এ জি ওসমানীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হবারও গৌরব অর্জন করেন শহীদ জিয়া।

১৮. ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২৬০টি এবং আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে মোট ২৯টি দল অংশ নেয়।

১৯. ১৯৭৮ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

২০. এই কর্মসূচির উপর জনগণের আস্থা আছে কি না সেটি যাচাইয়ের জন্য ১৯৭৮ সালের ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

২১. জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি। ১৫ আগস্ট সামরিক আইন জারি করেন খোন্দকার মোশতাক। বরং জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।

২২. জিয়াউর রহমান ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেননি। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল মোশতাক সরকার।

প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা, ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর এই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট আসাদুজ্জামান, তারেক রহমানের শিক্ষা ও গভেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমীন, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এম এ মালেক, গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, সভায় পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় যুক্তরাজ্য বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান তাজ উদ্দিনকে।