পিএইচপি শিপইয়ার্ডে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

জাহাজ ভাঙা শিল্পের উন্নয়ন এবং এ শিল্পের দ্বারা পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষার জন্য বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অনেক কাজ শেষের পথে।

২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিপব্রেকিংকে শিল্প ঘোষণার পর এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনার চেষ্টায় আছে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (০৩ এপ্রিল) সকালে সরকারের একটি প্রতিনিধি দল শিপইয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করল।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অজিজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাকিল মল্লিক। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) পক্ষে ইসি সদস্য ও পিএইচপি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু এবং বিএসবিআরএর সচিব নাজমুল হক।

প্রতিনিধি দলটি প্রথমে সীতাকুণ্ডের বিএসবিআরএ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন এবং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় পিএইচপি শিপইয়ার্ডের আধুনিকায়ন, ইতিবাচক অগ্রগতি ও উন্নয়ন দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অজিজুল ইসলামকে পিএইচপি শিপ ইয়ার্ডের আধুনিকায়নের নান‍া দিক তুলে ধরেন পিএইচপি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু

প্রতিনিধি দলটি পিএইচপি ইয়ার্ডকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পে উন্নয়নের ধারা সূচিত হচ্ছে। অন্য ইয়ার্ডগুলো এভাবে সংস্কার করা হলে দেশে এ শিল্পের দ্বারা পরিবেশ দূষণ হবে না।

প্রতিনিধি দলটি পিএইচপি ইয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন পিএইচপি কর্তৃপক্ষের দেশের উন্নয়নে অংশীদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সময় পিএইচপি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, লৌহজাত শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পরিবর্তে জাহাজ ভাঙা শিল্পের স্ক্র্যাপ ব্যবহৃত হওয়ায় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, যা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর এই শিল্প থেকে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি খাতে জমা হচ্ছে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দুই-আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সব প্রান্তিক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই শিল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। শিল্পে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক উত্তরবঙ্গের দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের। কর্মসংস্থানের ফলে তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবন মান উন্নত হয়েছে। এভাবে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি জানান, গত বছর সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিপব্রেকিং করে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ২৭ লাখ মেট্রিকটন। আর দ্বিতীয় স্থানে ২২ লাখ মেট্রিকটন ব্রেকিং করে  ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আশা করা যায় আগামীতে এ শিল্পে রাজস্ব অনেক গুণ বাড়বে এবং এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।