পায়ুপথের ভেতর ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে পায়ুপথের ভেতর ইয়াবা বড়ি নিয়ে পাচার করতে গিয়ে মো. ইসমাইল ওরফে বাঘাইয়া (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ইসমাইল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার বাসিন্দা গুরা মিয়ার ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবাগুলো পেটের ভেতর চলে যাওয়ায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার অস্ত্রোপচার করে পেটের ভেতর থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খোন্দকার বলেন, পায়ুপথের ভেতর ইয়াবা নিয়ে পাচার করতে গিয়ে ইসমাইল ওরফে বাঘাইয়া মারা যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই যুবকের বাড়িতে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। আজ সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লাশটি পাঠানো হয়। বিকেলে সেখানে অপারেশনের (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে পেটের ভেতর থেকে কনডম মোড়ানো ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ থানায় আনার পর বড়িগুলো গুনে দেখা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বড়ির সংখ্যা এক হাজারের মতো হবে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ওসি আতাউর বলেন, ইসমাইলের পায়ুপথে থাকা ইয়াবাগুলো পেটের ভেতর চলে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

মৃত যুবকের বাবার ভাষ্য, একই এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ নুরু, তাঁর ছেলে মো. হারুন, আবুল কালাম ও তার স্ত্রী গোল বানু টাকার লোভ দেখিয়ে ইসমাইলের পায়ুপথে ইয়াবাগুলো ঢুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো পৌঁছে দিতে তাঁরা ইসমাইলকে বাসে করে চট্টগ্রাম পাঠান। পথে তাঁর পেটে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। এ সময় সে হ্নীলা এলাকায় বাস থেকে নেমে তার বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পেটের জ্বালা-যন্ত্রণা বেড়ে গেলে রাত সাড়ে আটটার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে পেটের ভেতর ইয়াবা দিয়ে হত্যা করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য এলাকায় যোগাযোগ করেও অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।