পাহাড় কেটে নির্মিত হচ্ছে টাওয়ার, জনমনে আতংক

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ মে , ২০১৬ সময় ০৯:৪২ অপরাহ্ণ

নির্মিত টাওয়ার
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া টিভি টাওয়ারের অদূরে ঘুমধুম এলাকায় বিশাল সরকারী পাহাড় কেটে নির্মিত হচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। যদিও বা সরকারী নিষেধ রয়েছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কোন প্রকার স্থাপনা এবং টাওয়ার গড়ে না তোলার ব্যাপারে। কিন্তু রিয়েন্ট বিজনেস কসসোডিয়াম নামের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নামে লীজ প্লট নিয়ে এসব স্থাপনা ও টাওয়ার স্থাপন করে যাচ্ছে। যাহা সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। নাইক্ষংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বললেন এসব স্থাপনা গড়ে তোলার ব্যাপারে সে কিছু জানেন না।
গতকাল রবিবার সরেজমিন ঘুমধুম পাহাড়ী এলাকায় ঘুরে এসব পাহাড় কাটা দৃশ্য অবলোকন করে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ বছর পুর্বে রিয়েন্ট বিজনেস কসসোডিয়াম নামের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ একর করে ২টি প্লট বান্দরবার জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে বরাদ্দ নেয়। কিন্তু তাদের নির্ধারিত জায়গার বাইরেও প্রায় ৫ একর জায়গা তারা জরব দখল করে রাখে। বর্তমানে ওই সব সু-উচ্চ বিশাল পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিনত করে নির্মাণ করে যাচ্ছে পাঁকা স্থাপনা। ইতিমধ্যে প্লটের গেইটের সামনে তৈরী করেছে ৩ তলা বিশিষ্ট্য একটি টাওয়ার। টাওয়ারের অদূরে চলছে আরো কয়েকটি বহুল ভবনের নির্মাণ কাজ। শতাধিক শ্রমিক দিয়ে দিনরাত উপেক্ষা করে পাহাড় কাটা চললেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর একেবারে চোঁপ। অভিযোগ উঠেছে, এসব দপ্তরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কোম্পানীর লোকেরা এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই সব স্থাপনার ১’শ হাতের চলছে সরকারের বৃহৎ কর্মসূচী এশিয়ান হাইওয়ের সড়ক নির্মাণ কাজ। সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি’র তত্ত্বাবধানে উক্ত কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে একটি কোম্পানী অবিরাম নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। আর ওইসব ভবনে নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে আসা-যাওয়া করছে অপরিচিত লোকজন। এর ১ কিলোমিটার পশ্চিমে উখিয়া কুতুপালং ্এলাকায় অবস্থান করছেন প্রায় লক্ষাধিক অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের সাথে স্থাপনা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক আছে কি না তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সুব্রত বড়–য়া। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এসব স্থাপনা বা টাওয়ার নির্মাণ করা নিষেধ রয়েছে, কিন্তু কিভাবে এই কোম্পানী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছেনা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানটির কোন কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অবগত নয়। কারণ তারা নির্ধারিত প্লটের বাইরেও স্থানীয় লোকজনের প্রায় ৫ একর জায়গা জবর দখল করে রেখেছে। উক্ত জায়গা উদ্ধারের জন্য আমি নির্দেশ দিলে এরা আমার বিরুদ্ধেও আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। সুতারাং সাধারণ মানুষে এদের কাছে কতটুকু নির্যাতিত হচ্ছে তা দেখা বিষয়। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন খবর আমাদের কাছে আসেনি, তবে সরকারী পাহাড় কেটে কেউ স্থাপনা বা কিছু করতে চাইলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে রিয়েন্ট বিজনেস কসসোডিয়ামের ম্যানেজার হাসান জাহিদ চৌধুরীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।